আমের লাভজনক ব্যবসার সব আইডিয়া দেখে নিন

আম একটি ফল আর আমকে না চিনে এমন কেউ নেই। আমকে কেন্দ্র করে আপনি আমারের ব্যবসা করতে পারেন। লাভজনক ব্যবসার মধ্যে আম ব্যবসাটিকে আপনি বেছে নিতে পারেন। আম ব্যবসা করার জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে এবং কিভাবে শুরু করবেন সব কিছুই বিস্তারিত দেখে নিন আমার এই লেখার মাধ্যমে। তো শুরু করা যাক আম ব্যবসার সকল চাবিকাঠি। সত্যিকথা বলতে কি আমি ব্যবসা করি বা না করি আপনাদের যদি আমি সব ব্যবসার সঠিক আইডিয়া দিতে পারি আর আপনি লেখা পড়ে কখনও উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আমার মনে তৃপ্তি আসে, ঠিক যেমন আপনি একটি ফর্মালিন মুক্ত আম খেয়ে তৃপ্তি পেয়ে থাকেন। আসুন বক বক না করে আপনাদের আমের ব্যবসার আইডিয়া তুলে ধরি।

আমের ব্যবসা

আমের পরিচিতি নিয়ে না লিখে আমের ব্যবসার কথা বলছি, কারন আমের পরিচিতি প্রায় সবাই জানেন তবুও নিচে বলব। আমের ব্যবসা আপনি ৪ ধরনের করতে পারেন। আর চার ধরনের করতে পারবেন অবশ্যই কারন আম একটি সিজেনাল ফল। যদিও কিছু কিছু আম সারাবছরেই পাওয়া যায়। আর কিছুদিন পরেই আমের জমজমাট ব্যবসা হবে দেশে তাই আপনিও ঝুকে পড়তে পারেন আম ব্যবসার দিকে। আমের ব্যবসা মাথায় আনতে গেলে মনে পড়ে যাবে রাজশাহীর আমের কথা। এখানে একটি সত্য তথ্য দিয়ে রাখছি সেটা হলো আমের রাজধানী কিন্তুু চাপাইনবাবগঞ্জ। চাপাইয়ে প্রথম গুনগতমান সমপন্ন আম চাষ শুরু হয় কিন্তুু চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা রাজশাহী বিভাগে হওয়ায় অনেকেই মনেকরি আমের রাজধানী হলো রাজশাহী। আবার আমাকেও ভুল ধরতে পারেন কারন রাজশাহীততে যে আম পাওয়া যায় না তা কিন্তুু না বলা যাবে পুরো আম কেনার উপযুক্ত বিভাগ হল রাজশাহী ও জেলা হল চাপাইনবাবগঞ্জ। নিম্নে জেনে দেওয়া হচ্ছে রাজশাহী বিভাগের আম আপনি কি করে ৪ রকমের ব্যবসা করতে পারেন।

০১. আমের জমি লিজ নিয়ে ব্যবসাঃ আপনি যদি বেশি কিছু প্যারা না নিতে চান ও বেশি রিস্কি নিয়ে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে রাজশাহী অঞ্চলের ভাল ফলনশীল জমির বাগান বাৎসরিক ভাবে লিজ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। এমনকি আপনি ২ বছর ৪ বছর অথবা ১০ বছরের লিজ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তাহলে আপনি যদি আম বাগান লিজ নিয়ে ব্যবসা করেন তখন আপনাকে বাগনী বলে আমি আপনাকে ডাকতে পারি। তবে আম বাগান আপনি লিজ নিলে অনেক কিছু লক্ষ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিতে হবে। অনেক আম বাগানের জমির আম মিষ্টি আবার অনেক জমির আম বাগানের আম হয় টক। টক মিষ্টি যাই হোক না কেন সব আম বাগান আপনি লিজ নিতে পারবেন। মিষ্টি ও বড় আম বাগানের জমির দাম বেশি হয় এবং টক ও ছোট আম বাগানের জমির দাম কম হয়। আপনার লিজ নেওয়া জমির আম ভাল হলে আপনার কাছ থেকে আমার ২য় শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা আপনার কাছ থেকে আম কিনবে। আপনার বাগান লিজ নেওয়ার জন্য ইনভেস্ট লাগতে পারে ১০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা মাত্র।

০২. বাগান থেকে আম ক্রয়ঃ এবার আপনি আর এক ধরনের আমের ব্যবসা করতে পারেন। সেটি হলো বাগান থেকে আম কিনে বিক্রি করতে পারেন। আপনি প্রথমে বাগানীর আমের বাগানের আম দেখুন। যদি আপনি আম দেখে মনে করেন আমগুলি দিয়ে আপনি সফল ব্যবসায়ি হতে পারবেন তাহলে আপনি পুরো বাগানের আম পাইকারি দামে কিনে নিতে পারেন। আপনি এমন দামে আম কিনবেন যেন সব কিছু গিয়ে আপনার পকেট এ কিছু টাকা আসে। আপনি বাগানের আম কিনে কোথায় বিক্রি করবেন তা চিন্তা করতে হবে না। আমার ৩য় শ্রণীর লোকেরা আম কিনে নিয়ে যাবে। বাগান থেকে আম কেনার জন্য আপনার ইনভেস্ট লাগতে পারে ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা।


৩. পাইকারের কাছ থেকে আম কিনবেনঃ আমের ব্যবসা যেহেতু বছরে একবার আসে তাহলে অবশ্যই কম্পিডিশন একটু বেশি থাকে। আপনি যদি পাইকারি দামে আম কিনতে চান তাহলে আপনাকে আমের পাইকারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। রাজশাহী অঞ্চলে আমের অনেক পাইকার রয়েছে। তারা বাগান থেকে আম কিনে পাইকারি দামে বিক্রি করে। আপনি তাদের কাছ থেকে আম কিনে বিভিন্ন জেলার মার্কেট এ মার্কেটিং করে বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে মার্কেট এ ইনভেস্ট থাকতে হবে একটু বেশি কারন আপনার কাছ থেকে এমন এমন ক্লাইন্ড আম কিনবে একদম বাকিতে তারা আম বিক্রি করে আপনাকে টাকা দিবে। তার পরেও একটা হিসাব না দিলে কেমন হয়ে যায় না, তবু্ও বলছি আপনাকে ৪ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনভেস্ট করতে হবে । এখানে আর একটু চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে রাখি __ ৩য় শ্রেণীর আম ব্যবসায়ীদের মার্কেট এ একটু কম্পিডিশন বেশি হয়।

০৪. আমের দোকান করে ব্যবসাঃ আপনি আম বিক্রি করতে পারলে ভাল মুনাফা পাবেন। আর এই মহুর্তে আপনি আছেন দাড়ি পাল্লা নিয়ে মার্কেটে মানে খুচরা বিক্রি করতেছে। আপনি ৩য় শ্রেণীর পাইকার থেকে আম কিনে বিক্রি করতেছেন এর জন্য আপনাকে দক্ষ হতে হবে। আপনি স্থায়িত্ব বা অস্থায়ী দোকান দেন না কেন আপনি সব সময় ফুট পাতের কাছাকাছি দোকানটি দিতে পারেন। মনে রাখবেন বাজারে কেউ মনস্থির করে আম কিনতে আসে না। হাটতে এসে আম দেখে পছন্দ হলে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত আম কিনে নিয়ে যায়। তাই দোকান দেওয়ার জন্য আপনাকে এমন সব জায়গা বেছে নেওয়া ভাল।

Rebnal Tea

আবার আপনি আর একটি পদ্ধতিতে আমের ব্যবসা করতে পারেন যেটা হলো আপনি আমের নিজনে বড় ব্যানার দিয়ে লিখে দিতে পারেন ” রাজশাহীর আমের মেলা” শুধু এই ব্যানার দিয়ে একটু মাইকিং করে দেখুন কতটি দাঁড়িপাল্লা আপনার লাগে। তবে অবশ্যই আপনার আম কাস্টমারের চাহিদামত হতে হবে। তাহলে মার্কেট ভাল পাবেন। আমের দোকান দিয়ে ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে কমপক্ষে ১ থেকে ৫০ হাজার টাকার মত লাগতে পারে।

আমের পরিচিতিঃ আপনি আম ব্যবসায়ী হয়েছেন কিন্তু আমের নাম বলতে পারতেছেন না এটা কি করে সম্ভব! তাই আপনাকে আমের সব নাম জানতে হবে এমনকি আপনার সংগ্রহে যে সব আম নেই সে সব আমেরও নাম মুখস্ত করে রাখতে হবে। যেন কাস্টমার আপনার আমের অবিজ্ঞতা দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। আমের আছে অনেক প্রকার নাম হাস্যকর হলেও সত্য যে আমের নাম দেওয়া হয়েছে কিছু বাগানীর নামের উপর,স্থানের উপর, বাচ্ছার নামের উপর এমনকি বউয়ের নামের উপর! সেই ভালবাসা ভাই। নাম অনুশারে কিন্তুু বিভিন্ন জাতের আমের বৈশিষ্ট ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। চলেন কিছু আমের জাত নিম্নে দেওয়া হলো আপনি গানের সুরে বলতে পারেন অথবা কবিতার ছন্দে আমগুলির নাম দিতে পারেন সেটা আপনার উপর ছেড়ে দিচ্ছি। তবে আমি কিন্তুু গানের সুরে আমের নামগুলো বলছি……. কাজলা সিন্দুরি, কিষাণ ভোগ, কোহিনুর, কোহিতুর, কুয়া পাহাড়ি, টোফা, কাজল ফজলি, কাইয়া ডিপি, কাটাসি, গোলাপ খাস, গোলাপ বাস, গোল্লা, গুল্লি, গৌরজিত, গুলগুল্লি, চেপি, চরবসা, চম্পা, চন্দন খোস, চিনি কালাম, চিনি বড়ই, চিনি পাতা, ছাবিয়া, ছানাজুর, ছফেদা, জালী বান্ধা, ভাঙা, জিলাপির ক্যাড়া, ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, গোপালভোগ, ফজলি, আশ্বিনা, বোম্বাই, অগ্নি, অমৃত ভোগ, আলফাজ বোম্বাই, আতাউল আতা, আরিয়াজল, আরাজনমা, আলম শাহী, গিলা, গোলাপবাস, আনারস, ইলশাপেটি, কলাচিনি, কাঁচামিঠা, কালিয়া, কৃষ্ণচূড়া, টিক্কাফারাশ, টিয়াকাঠি, কালাপাহাড়ী, কালিভোগ, কালুয়া, কাঞ্চন খোসাল, জোয়ালা, জিতুভোগ, গোবিন্দভোগ, জর্দা, জর্দালু, ত্রিফলা, বাওয়ানী, বাউনি লতা, তাল পানি, দার ভাঙা, দর্শন, দাদভোগ, দেউরি, দিলসাদ, দোফলা, দিল্লির লাডুয়া, দুধিয়া, দেওভোগ, দুধসর, বড়বাবু, নারিকেলি, নারকেল পাথী, নয়ন ভোগ, প্রসাদ ভোগ, জিতুভোগ, সীতাভোগ, বোগলাগুটি, পাথুরিয়া, ফজলি কালান, ফনিয়া, বারমাসি, বোতল বেকি, বোতলা, বড়শাহী, বাতাসা, বাউই ঝুলি, বিড়া, বেগম পছন্দ, কমল পছন্দ, বেল খাস, বিমলা, বিশ্বনাথ, বোম্বাই কেতুল্লা, বদরুদ্দোজা, বোম্বাই গোপাল ভোগ, বোম্বাই খিরসা, বউ ভুলানী, বৃন্দাবনী, সাহা পছন্দ, বাদশা ভোগ, ভাদুরি, ভবানী, ভবানী চৌরাস, ভারতী, মাল ভোগ, মাংগুড়া পাকা, মিসরীদাগী, মিসরী ভোগ, মিসরী দানা, মিসরী কান্ত, ভূত বোম্বাই, মতিচুর,
মোহন ভোগ, মোহন পছন্দ, রাজরানী, রাম প্রসাদ, রানি পছন্দ, কাজী পছন্দ,হুক্কা, লাড়ুয়ালী, ডালভাঙা, মণ্ডা, মিছরী দমদম, নীলাম্বরী, খান বিলাস, বাতাসা, মনাহারা, পাথুরিয়া, তোহ্ফা, ফোনিয়া, মধুচুষকি, মধুমামি, নকলা, মোহিনিসিন্দুরী, ভুজাহাড়ি, সন্ধ্যাভারুতি, পদ্মমধু, অমৃতভোগ, লতারাজ, বৃন্দাবনি বিলুপছন্দ, রানি ভোগ, রাজ ভোগ, কালিভোগ, জিবাভোগ, লাক্ষৌ, লাদুয়া, লাডুয়া, লোরাল, লালমুন, লক্ষণ ভোগ, লতা খাট, লতা বোম্বাই, নাবী বোম্বাই, লোহাচুর, শ্যাম লতা, রসবতী, সাটিয়ার ক্যাড়া, সাদাপাড়া, সবজা, সুবা পছন্দ, শাহী পছন্দ, সরিখাস, শরিফ খাস, সিন্দুরি, সারাবাবু, শোভা পছন্দ, সুলতান পছন্দ, সফদরপছন্দ, সূর্যপুরী, সুরমাই ফজলি, হায়াতী, হিমসাগর, খুদি ক্ষিরসাপাত, ক্ষিরপুরি, ক্ষিরমন, ক্ষির টাটটি, ক্ষির বোম্বাই, বেলতা, হাড়িভাঙা,
বৈশাখী, গৌড় মতি সহ ইত্যাদি… ইত্যাদি… ইত্যাদি।

নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল.. হা হা হা। আপনি ইতিমধ্যে আমের ব্যবসার সকল আইডিয়া নিয়েছেন এখন আমি কিছু আমার আইডিয়া বলব আর আমের ব্যবসার ঝুকি সমন্ধে বলব। আম শুধু রাজশাহী অঞ্চলে হয় না নয় আম সারা বিশ্বে উৎপাদন হয়। বাংলাদেশের মধ্যে সব থেকে বেশি আম উৎপাদিত হয় রাজশাহী অঞ্চলে তাই রাজশাহীর দিকে তীর ছুড়ে আমার আজকের পোস্ট। এখন মন খারাপ করে লাভ নেই আপনি কখনও আমে ফর্মালিন মিশাবেন না, মনে রাখবেন আপনার কাছ থেকে যারা আম কিনেছে তারাও কারো সন্তান, ভাই, বোন। তাই আপনি এই জঘণ্য কাজটি করবেন না এটা আমার রেকুয়েস্ট। কারন প্রতিনিয়ত দেখি যে আমে ফর্মালিন মেশানো হচ্ছে। সবাইকে সুস্থ রাখার অধিকার আপনার আছে। আপনি নিজেও ফর্মালিনযুক্ত আম কিনবেন না আপনি বিক্রিও করবেন না। আম ব্যবসায় তেমন লস নেই কারন মার্কেট এ আমের চাহিদা অনেক রয়েছে। যদি না আপনি ফর্মালিন মেশাতে গিয়ে লসে না পড়েন তাহলে লস হবে না। আর আম রক্ষা ও গুনগত মান ঠিক রাখার জন্য সরকার সব সময় আপনাদের পাশে আছে। আপনি সরকারের সহায়তা গ্রহন করুন দেখবেন সব কিছু ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment