এজেন্ট ব্যাংকিং কি ও এই ব্যবসার সকল তথ্য আডিয়া সহ সব কিছু

বর্তমানে দিন দিন মানুষ ব্যাংকিং সেক্টরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গ্রাহক এতো বেশি পরিমানে হচ্ছে যে ব্যাংকগুলো হিমসিম খাচ্ছে। আবার প্রতিনিয়ত গড়ে উঠতেছে নতুন ব্যাংক। আর এই সব ব্যাংক এর একটি শাখার নাম হল এজেন্ট ব্যাংকিং। আজ আপনাদের এজেন্ট ব্যাংকিং এর সকল তথ্য ও নীতিমালা সহ ব্যবসার আইডিয়া আপনাদের মাঝে তুলে ধরব। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এজেন্ট ব্যাংকিং এর খুটিনাটি জানতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং কি?

এজেন্ট ব্যাংকিং হল এমন একটি ব্যাংকিং সেবা যা কোন নিদৃষ্ট ব্যাংক এর ব্রেঞ্চ এর আওতায় গ্রাহকের দারপ্রান্তে ব্যাংকিক সেবা পৌছে দেয়। এজেন্ট ব্যাংকিক এর কাজ এটি মুল ব্রেঞ্চের অধীনে থাকে। তবে একটি এজেন্ট ব্যাংকিক সেবা প্রতিষ্ঠান কখনও মুল ব্রেঞ্চ হয় না। মোটকথা এজেন্ট ব্যাংকিক এমন একটি সেবা মূলক ব্রেঞ্চ যা থেকে মানুষের মাঝে খুব সহজেই ও সঠিক পদ্ধিতে ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেওয়া হয়।

কবে থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়?

এজেন্ট ব্যাংকিং বাংলাদেশে প্রথম ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়। এর পর ২০১৪ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়। বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে প্রথম ব্যাংক হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং এর খাতায় নাম লেখান ব্যাংক এশিয়া। যেটি মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ইসলাম শেখ কে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ব্যাংক এশিয়ার প্রথম এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এজেন্ট ব্যাংকিং কি কি সেবা দেয়?

একটি ব্যাংক এর শাখা যে রকম সেবা প্রদান করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা তেমনেই সেবা দিয়ে থাকে। তবে পার্থক্য হয় কিছুটা সময়ের ক্ষেত্রে। এটি ব্যাংকের কোন শাখায় যে কাজটি করতে ১ দিন সময় লাগে সে কাজটি এজেন্ট ব্যাংকিং এ করলে হয়তো ২ থেকে তিনদিন সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমানে এই সমস্যাটিও সমাধান করতেছে অনেক ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় যে সকল সেবা পাওয়া যায় তা হল : একাউন্ট খোলা, দীর্ঘ মেয়াদি ও স্বল্প মেয়াদী আমানত সংগ্রহ করা, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা, চেক প্রদান করা, টাকা জমা দেওয়া, টাকা উত্তলন করা, ফান্ড টেনাস্ফার করা, একাউন্ট এর তথ্য জানা, ঋণের আবেদন জমা নেওয়া, সরকারি ও প্রবাসী সহ সকল ব্যাংকিং সুবিধা সহ প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা।

কারা এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্ট হতে পারবেন?

যে কোন ব্যাংক এর এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট হতে গেলে কোম্পানি আইনের আওতায় অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, আইটি মূলক সেবা প্রদান করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অফিস সমূহ, এমআরএর অধীনে অনুমোদন পাওয়া সকল এনজিও, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল কুরিয়ার সার্ভিস, কো-অপারেটিভ সোসাইটির অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি, গ্যাস ও পেট্রল পাম্পের মালিক, বিমা কোম্পানির প্রতিনিধি ও ফার্মেসির মালিকগণ যে কোন ব্যাংকের এজেন্ট হতে পারবেন।

কারা এজেন্ট ব্যাংকিং এর আওতায় আসবে না?

আপনার মধ্যে নিম্নের লেখাগুলোর মধ্যে যদি কোন কিছু থেকে থাকে তাহলে আপনি যে কোন ব্যাংক এর এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট হতে পারবেন না। আপনার যদি কোন ফৌজদারি মামলার আসামি হোন তাহলে এজেন্ট হতে পারবেন না। এছাড়াও আদালতের মাধ্যমে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আপনার সাজা যদি হয় ৩ বছরের জেল, আপনি যদি মানি লন্ডারিং করেন ও কোন সন্ত্রাসী কাজে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কারনে অভিযুক্ত ব্যাক্তি হোন, আপনার যদি ঋণখেলাপি থাকে, আপনি যদি কোন সময়ে আদলতের মাধ্যমে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করেন, আপনি যদি অন্য ব্যাংক এর বিদ্যমান ব্যক্তি বা আপনি ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ঝুকিপূর্ণ হোন তাহলে আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট হতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং দক্ষতা

আপনাকে একটি ব্যাংক এর এজেন্ট হতে হলে আপনাকে কিছু দক্ষতা রাখতে হবে। তা নাহলে আপনি যদি অন্যের উপর দক্ষতায় নির্ভর করেন তাহলে আপনি যে কোন সময়ে বিভিন্নরকম সমস্যায় পড়তে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিং এর জন্য আপনাকে কম্পিডিটার চালাতে পারদর্শিতা হতে হবে, এছাড়া মাইক্রসফ্ট অফিস, মাইক্রসফ্ট এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ইন্টারনেট এর কাজ ভাল ভাবে জানতে হবে। ব্যাংকের এজেন্টরা সাধারণত পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) কার্ড রিডার, মোবাইল ফোন,বারকোড স্ক্যানার, পিন প্যাড ইত্যাদির সাহায্যে কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। তাই এগুলোতেও হতে হবে আপনাকে পারদর্শিতা।

এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা

আপনি আবেদন করার পর যদি ব্যাংক আপনার সব কিছু দেখে তারা সন্তুুষ্ট হয় তাহলে তারা বাংলাদেশ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক এর নীতিমালা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নীতিমালা অনুযায়ী আপনাকে তারা এজেন্ট হওয়ার নিয়োগপত্র দিয়ে দিবে। এছাড়া আপনাকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে হবে ও গ্রাহকদের সেবা দিতে হবে।

এজেন্ট ব্যাংকিং চুক্তি বাতিল

এজেন্ট ব্যাংকিং এ আপনার নানা করনে চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে। চুক্তি বাতিলে বেশ কিছু জায়গায় এজেন্ট কতৃক চুক্তি বাতিল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুক্তি বাতিলের সব থেকে বড় কারন হল : যদি কোন এজেন্ট তার সব সেবা বন্ধ করে দেয়, ব্যাংক এর অনুমতি ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর অথবা ঠিকানা স্থান্তর করলে, যে কোন আদালত কতৃক এজেন্ট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে, এজেন্ট ব্যবসায়ি যদি ক্ষতির সম্মুখি হলে এবং তা তিন মাসের মধ্যে চালু না করলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নীতিমালা অমান্য করলে এবং এজেন্ট হইতে পারবে না এমন ব্যক্তিকে আংশিক মালিকানা হস্তান্তর বা শেয়া করলে।

এজেন্ট ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ

আপনি যদি কোন ব্যাংকের সাথে এজেন্ট নিয়োগ পান তাহলে আপনাকে ঐ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ দিন প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক তার থেকে কম সময় নেয় আবার কোন ব্যাংক বেশি সময় নেয়। এটা সমপূর্ণ ব্যাংকের উপর নির্ভর করে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লক্ষ্য

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লক্ষ্য হচ্ছে সে প্রত্যেক মানুষকে ব্যাংকের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের লেনদেন সহ সব তথ্য ব্যাংকের কাছে যেমন নিয়ে আসা, ঠিক তেমন ভাবে ব্যাংকগুলো মানুষের সকল সেবা প্রদানের জন্য তাদের দোরগোড়ায় পৌছা। বর্তমান সময়ে অনেক ব্যাংক তাদের শাখা পরিচালনা করার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। এতো গ্রহক বেশি যে তারা সময় নিতে পারছে না। তাই তাদের পাশে দাড়ানোর জন্যও এজেন্ট ব্যাংকিং এর ভূমিকা অনেক। এছাড়া যে সকল এলাকায় সংশ্লীষ্ট ব্যাংকের শাখা নেই সেই সব এলাকার সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান, চর এলাকা, প্রত্যান্তঅঞ্চল, দ্বীপ সহ যেখানে ইলেক্টিক সুবিধা নেই সেই সকল এলাকায় ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে যেমন – স্কুল, পথশিশু, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে সব সেবা পৌছে দেওয়া।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর ব্যাংক ও গ্রহক সংখ্যা

দিন দিনেই বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা, একদম হাতে কাছে সব কিছু গ্রাহক পাচ্ছে ও অপরদিকে হাতের কাছেই ব্যাংগুলো গ্রাহক পেয়ে যাচ্ছে। তাই এখন সেবা নিতে ও সেবা দিতে অনেক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর উপর নির্ভর করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর অনুযায়ী ২২ টি বানিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছেন। আর মধ্যে ১৯ টি ব্যাংক সারাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকদের প্রদান করে যাচ্ছে, সেই ব্যাংকগুলো হল–

01. ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
02. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড
03. দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড
04. আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী লিঃ
05. ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
06. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
07. মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড
08. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
09. এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
10. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড
11. অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
12. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ
13. মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড
14. প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড
15. ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিঃ
16. এবি ব্যাংক লিমিটেড
17. এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড
18. ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
19. ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড

এইসব ব্যাংক এর রয়েছে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক। গ্রাহকদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনেই ভাল লেনদেন হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং Ageant Banking এর সব থেকে ভাল প্রভাব পড়েছে গ্রাম অঞ্চলে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বলা হয়েছে এই ব্যাংকিং এ সর্বচ্চো ২৯ শতাংশ গ্রাহক ছোট ব্যবসায়ি ১৮ শতাংশ রয়েছে গৃহিণী ৩ শতাংশ রয়েছে দিনমজুর ৭ শতাংশ রয়েছে কৃষক এছাড়া বিআইবিএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ১৫ শতাংশ গ্রাহক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও ৭ শতাংশ গ্রাহক শিক্ষার্থী।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর তথ্যমতে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের ব্যাংক একাউন্ট খোলার সংখ্যায় প্রায় ৬ গুণ বেশি। তাছাড়া গত বছরের মার্চ এর পর ছয়টি ব্যাংক গ্রাহকদের ১২২ কোটি টাকা ঋণও দিয়েছে। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে জনগোষ্ঠীদের রেমিট্যান্স সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিং খুব ভাল সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরে সব ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ৯ শত ৫ টি আউটলেট এ ২ হাজার ৬ শত ৭৪ কোটি টাকা রেমিট্যান্স প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যেই গ্রামে ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা ও শহরে মাত্র রেমিট্যান্স এর পরিমান ছিল ২৯৮ কোটি টাকা মাত্র।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা

আপনি যদি কোন এজেন্ট ব্যাংক এর এজেন্ট হন তাহলে আপনি ভাল সুবিধা লাভ করতে পারবেন। আপনাকে খুব কম জামানতে এজেন্ট হওয়ার সুযোগ করে দিবে। এছাড়া আপনার জায়গা লাগে কম ও আপনার লোকবলও কম হলে চলবে। এছাড়া আপনি চাকরি হিসেবে বেচে নিতে পারেন বা ব্যবসা হিসেবে নিবেন সেটা আপনার মনের উপর নির্ভর করে।

এজেন্ট ব্যাংক এর খরচ কত?

এজেন্ট ব্যাংক করতে গেলে আপনাকে তেমন খরচ করতে হবে না। বা বেশি পূঁজি নিয়ে নামতেও হবে না। টাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেখে। তারপরেও একটি এজেন্ট ব্যাংক এর অফিস দিলে আপনি যদি সুন্দর করে অফিস ইন্টেরিয়র ডিজান করেন তাহলে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে করতে পারবেন। তাছাড়া আসবাবপত্র ও কম্পিডিটার সহ প্রতিমাসের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারি ও ঘর ভাড়া সহ মাসে খরচ হতে পারে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে আপনার চাহিদার উপর খরচ বাড়তে পারে বা কমতে পারে। এছাড়া আপনার ওখানে একজন ব্যাংক প্রতিনিধি থাকতে পারে, তার সকল খরচ ব্যাংক বহন করবে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লাভের উৎস?

এতোকিছু করে কোন একটি ব্যাংক হতে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা খুললেন ভাল কথা। এই যে এতকিছু করলেন অবশ্যই লাভের আশায়। আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে কমিশনে লাভ করতে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিং মানে আপনি ব্যাংকের একজন তাজা কমিশন এজেন্ট। বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন রকম কমিশন প্রদান করে। গ্রাহকের ডিপোজিট থেকে ২-৩% কমিশন পাবেন। এছাড়া কারেন্ট একাউন্ট, ডিপোজিট, ফিক্সডিপোজিট, ফরেন রেমিটেন্স একাউন্ট বোনাস, এটিএম কার্ড ইস্যু, চেক বই ইস্যু, ইউটিলিটি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পাসপোর্ট ফি জমা নেওয়া, লোন প্রদান করলে ১% কমিশন সহ আরো নানা রকম কাজে কমিশনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লোকশান

এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে কত কিছুই করলেন এবার আপনার লাভের পালা। তবে আগে লোকসান করুন। সর্বনিম্ন ১ বছর আপনি কোন লাভের মুখ দেখতে পারবেন না। বাবার হোটেল এ খেয়ে আপনাকে ব্যাংকিং চালিয়ে যেতে হবে। খুব ভাল একটা বুদ্ধি দেই, যেটি সহজে কেউ দেয় না। আপনি এই ফাঁকে একটা বিয়ে করে ফেলুন। পাত্রী কে নায় দেয় আপনাকে, সবাই তো জানতেছে আপনি একজন কর্মবান ছেলে। আর সেই সাথে আপনার নতুন আত্নীয় তৈরি হলো। তবে এলাকার আশে পাশে বিয়ে করাই ভাল হবে। এতে করে আপনি সহজেই মার্কেটিং করতে পারবেন। এর মধ্যে আপনার এজেন্ট ব্যাংকিং এ সেভিং বাড়তে থাকবে আর আয়ও শুরু হতে থাকবে । কারন আপনি যত বেশি সেভিং বা টাকা জমা পড়বে আপনি তত আয় করতে পারবেন। তবে শশুর বাড়ি বড়লোক টাইপের হলে আপনার ব্যাংক হবে বেশি চঞ্চল। আর যদি শশুর বাড়ির লোক খারাপ হয় তাহলে আপনার ব্যাংক লাঠে উঠে যাবে সেটা ঋণ দিলে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এ লাভ

আপনি যে ব্যাংক থেকেই এজেন্ট নেন না কেন ব্যাংকটি কিন্তুু এখন আপনার। এখন আপনি আপনার ব্যাংক থেকে আয় করতে পারেন খুব ভালভাবে। যখন আপনার ব্যাংকি পুরোপুরি দাড়িয়ে যাবে। যখন আপনার ব্যাংক এ খুব ভাল সেভিং একান্ট হয়ে যাবে। আর যখন আপনার ব্যাংক এ লেনদেনের পরিমান ভাল হবে। তাহলে আপনার আয় অনেক ভাল হবে। মোটামুটি আপনার ব্যাংক এ সেভিং একাউন্ট এর পরিমান যদি ৫ কোটি টাকার উপরে হয় তাহলে আপনার প্রতিমাসে সেই একাউন্ট থেকে ভাল আয় করতে পারবেন। তখন সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা অনায়েসে লাভ করতে পারবেন। এদিকে ১ বছর পর ভাবির সাথে ভাল করে চলাফেরা করতে পারবে। সম্ভবত এতদিনে আপনি বাবাও হতে পারেন। সাজেস্ট করি সেই সময়ে আপনার ফ্যামিলির ৩ জনেরেই নামে ৩ টা সেভিং একাউন্ট খুলে আপনাদের গ্রহক আপনারাই হোন।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment