লাভজনক ক্যামিক্যাল ব্যবসার আইডিয়া

পাইকারি ব্যবসার মধ্যে ক্যামিক্যাল ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। আবার এই ক্যামিক্যাল ব্যবসা করলে অনেক রকম লাইসেন্স লাগে সাথে সরকারে অনেক বিষয়ের পার্মিশন ও লাইসেন্স নিয়ে এই ব্যবসা করতে হয়। আজ আপনাদের বলবো ক্যামিক্যাল ব্যবাসার আইডিয়া ও এই ব্যবসায় কেমন লাভ আসে এবং গুরুত্ববহ সহ ঝুকি সমুহ। আপনি সমপূর্ণ পোস্ট টি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আশাকরি আপনি এসকল বিষয়ে জানার পর রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে হালাল পথে ব্যবসা শুরু করে আপনার বেকারত্বের আবসান ঘটিয়ে ফেলুন। তো শুরু করা যাক ক্যামিক্যাল ব্যবসার সকল চাবিকাঠি।

ক্যামিক্যাল কি?

ক্যামিক্যাল শব্দটি ইংরেজি শব্দ এর বাংলা হল কেমিকেল, কেমিক্যাল /বিশেষ্য পদ/ রাসায়নিক বস্তু, কৃত্রিম, নকল। সত্যিকথা বলতে ক্যামিক্যাল এমন একটি পদার্থ রাষ্ট্র ও নীতিমালা যে অর্থ ব্যবহার করুক না কেন সেটি অবশ্যই পারবে। তবে যদি এই ব্যবসায় রাষ্ট্র কোনরকম অবৈধতা পায়। তবে ঘাবড়ানোর কোন কারন নেই ক্যামিক্যাল ব্যবসা তো অনেকেই করে এবং সারাবিশ্বে এর চাহিদা প্রচুর তাই আপনিও করতে পারেন অনায়োসে। তবে অবশ্যই সব বিধি বিধান নিয়ে করবেন। তাহলে ক্যামিক্যাল কি তা বললে সরাসরি উত্তর এসে দারায় যে_ রাসায়নিক পদার্থগুলোই হলো ক্যামিক্যাল

ক্যামিক্যাল ব্যবসার আইডিয়া

কেমিক্যাল ব্যবসা আমদানী-রপ্তানী ব্যবসার অন্তর্ভূক্ত। কেমিক্যাল খাতে ব্যবসা করতে গেলে আপনি কয়েক ধাপে ব্যবসা করতে পারেন। প্রথমত আমদানীকারক হিসেবে দ্বিতীয়ত সরবরাহকারী হিসেবে। আপনি ইচ্ছে করলে নিজেই আমদানীকারক এবং সরবরাহকারী দুটোই হতে পারেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোথায় কোথায় কেমিক্যাল সরবরাহ করবেন? একবার চিন্তা করুন তো, কোন কোন ক্ষেত্রে রয়েছে যেখানে কেমিক্যালের ব্যবহার নেই? দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেমিক্যালের ব্যবহার রয়েছে। তবে সবার্ধিক কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় পোষাক শিল্প ও ঔষধ শিল্পে। এছাড়াও অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরন, সাবান, ডিটারজেন্ট, কলম ইত্যাদি ক্ষেত্রেও কেমিক্যালের বিশদ ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি ক্যামিক্যাল ব্যবসায়ি হোন তাহলে উপরক্ত বিষয়ে সব জায়গায় ব্যবসা করতে পারবেন।

ক্যামিক্যাল এর নাম সমূহ

ক্যামিক্যাল ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে রসায়ন বিষয়ে অনেক জ্ঞান রাখতে হবে। কারন আপনি যে কোন সময় রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন। আর আপনার গুদামের ক্যামিক্যালের সব তথ্য না দিতে পারলে আপনাকে আইনের আওতায় রাষ্ট্র নিয়ে আসতে পারে। তাছাড়া আপনাকে ক্যামিক্যাল এর নাম মুখস্থ রাখতে হবে এবং এর ব্যবহারবিধিও জানতে হবে। চলুন দেখে নেই কয়েকটি ক্যামিক্যাল এর ধরন।
কেমিক্যালের ধরন :

১। ডাইস্টাফ (রি-এ্যাকটিভ, এসিড, ডাইরেক্ট, বেসিক, সলভেন্ট ডাই)
২। প্রোসেস (প্রি-ট্রিটমেন্ট, ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং)
৩। ডাই (ইঙ্কজেক্ট, সোপ, ডিটারজেন্ট)
৪। পিগমেন্ট (অর্গানিক, ইন-অর্গানিক)
৫। ন্যাফথল, ফাস্ট বেস এবং কালার সল্ট
৬। টেক্সটাইল অক্সিলিয়ারি
৭। অপটিকাল ব্রাইটনার
৮। ক্যারামেল কালার
৯। সিনথেটিক ফুড কালার
১০। থিকেনার
১১। এডহেসিভ
১২। এনজাইম
১৩। ল্যাব কেমিক্যাল
১৪। ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিক্যাল।

ক্যামিক্যাল বিক্রির নিয়ম

ধরুন আপনি উপরক্ত ক্যামিক্যাল বাহিরের দেশ থেকে আমদানি করলেন। এর জন্য আপনাকে প্রথমে আমদানি লাইসেন্স সরকারের কাছ থেকে নিতে হবে। তারপর সরকারের কাছ থেকে আপনাকে ক্যামিক্যালের গোডাউনের বিশারদ জমা দিতে হবে। যে পাত্রে ক্যামিক্যাল রাখবেন সেই পাত্রের নমুনা দেখাতে হবে। এর পর সরকার থেকে আপনাকে বিক্রির জন্য অনুমোদের নীতিমালা নিতে হবে এবং আপনাকে সেই নীতিমালা অবশ্যই পালন করতে হবে। কারন ক্যামিক্যাল এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যেগুলো পরিবেশের অনেক ক্ষয় ও নষ্ট করে। তাই এসব কিছু আপনাকে প্রথমে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এতো কিছু করলেন তো এবার বিক্রি করার পালা। কোথায় বিক্রি করবেন বা কার কাছে বিক্রি করবেন সেই বিষয়ে কিছু নমুনা দেওয়া হলোঃ
১। স্পিনিং মিল – ৬৩ টির অধিক
২। ইয়ার্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান – ২৯২ টির অধিক
৩। ফেব্রিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান – ৭৪০ টির অধিক
৪। ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল – ২৩৩ টির অধিক
৫। ফার্মাসিউটিক্যালস – ১২৫ টির অধিক
৬। ল্যাব সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় – ১০৫ টির অধিক

এছাড়াও রয়েছে অগনিত কলম, সাবান, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি কারখানা। হিসেব করে দেখা গেছে মোট মিলগুলোর তুলনায় দেশে আমদানীকারক ও সরবরাহকারীর সংখ্যা অনেক কম।

ক্যামিক্যাল ব্যবসার নীতিমালা

আপনি ব্যবসা করবেন অবশ্যই ক্যামিক্যাল ব্যবসার নীতিমালা নিয়ে। আবার যারা আপনার থেকে ক্যামিক্যাল কিনবে তারাও অবশ্যই ক্যামিক্যাল ব্যবহারের নীতিমালা অনুযোগী ক্যামিক্যাল ব্যবহার করবে । তার মানে আপনি যেমন নীতিমালা অনুযায়ী ক্যামিক্যাল বিক্রি করতেছেন ঠিক তেমন আপনার কাছ থেকে যেসব কোম্পানী ক্যামিক্যাল কিনবেন তারাও সেই ক্যামিক্যাল এর ব্যবহারের সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করে ক্যামিক্যাল ব্যবহার করবে।

ক্যামিক্যাল ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে

ক্যামিক্যাল ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে তার সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব না। কারন প্রতিদিন নতুন নতুন রাসায়নিক পদার্থ সাপ্লাই হচ্ছে। আর মার্কেটেও সেই নতুন ক্যামিক্যালের চাহিদা বাড়তেছে। তাই হিসেব মিলানো সম্ভব নয়। প্রশ্ন হতে পারে কোন দেশ দেকে ক্যামিক্যাল আমদানি করব? পৃথিবীর অনেক দেশেই ক্যামিক্যাল রপ্তানি করে। তবে সবার উপরে রয়েছে চীন, আমেরিকা, জাপান ও ভারত। এসব দেশের ক্যামিক্যালের মান অনেক ভাল হয় তাই চাহিদাও বেশি।

কেমিক্যাল ব্যবসা বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা ক্ষেত্র। এতে মুনাফা অত্যাধিক। মেধা-বিনিয়োগ-অভিজ্ঞতা-মার্কেটিং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যে কেউ এ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

আজ ক্যামিক্যাল নিয়ে আপনাদের মাঝে পোস্ট করলাম। আশাকরি একটু হলেও আপনাদের বোঝাতে পেরেছি যে ক্যামিক্যাল ব্যবসা করার নিয়ম থেকে শুরু করে সব কিছু। তবে যদি আপনি এই ক্যামিক্যাল ব্যাবসায় সমপৃক্ত হয়ে যান তাহলে আপনি সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা করবেন। ক্যামিক্যাল সঠিক জায়গায় বিক্রি করবেন এবং দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নিয়ে আসে এমন সব কিছু পরিহার করবেন। অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আপনার পাশে থাকবে।

ক্যামিক্যাল নিয়ে এই লেখাটি অনেক ছোট হয়েছে। এর বিশারদ জানতে আরও অনেক কিছু লিখব সেটা পর্যায়ক্রমে। আর যদি আপনার ক্যামিক্যাল বিষয়ে কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্স এ জানাবেন। উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আজ এ পর্যন্ত।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

2 thoughts on “লাভজনক ক্যামিক্যাল ব্যবসার আইডিয়া”

  1. কিভাবে শুরু করব,কিভাবে আমদানি করব,কিভাবে সাপ্লাই দিব।এক্টু জানান

    Reply
    • তোফায়েল ভাই আপনাকে ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য। উপরে দেওয়াই আছে বিস্তারিত। তারপরেও আমি পরবর্তী সময়ে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট নিয়ে পোস্ট করব। আশাকরি আপনি সকল তথ্য পাবেন। লেখাটি যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে শেয়ার করতে পারেন।

      Reply

Leave a Comment