অল্প পূঁজির লাভজনক চা পাতার ব্যবসা করার সকল আইডিয়া

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চায়ের গুরত্ব অনেক। তাই চায়ের বিকল্প নেই। চা পাতার ব্যবসা করলে আপনি অনেক লাভবান হবেন। তাই নেমে পড়তে পারেন চা পাতার ব্যবসা নিয়ে। আপনি এই ব্যবসা বাড়িতে থেকেই করতে পারেন। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে চা পাতার ব্যবসা করেন তাহলে অনেক লাভবান হবেন। চা পাতার ব্যবসা যেমন অনেক লাভবানের ঠিক তেমনি অনেক লসের হয়ে যায়। যদি আপনি সঠিক পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী না করতে পারেন। আপনাকে এই ব্যবসা করতে গেলে চায়ের গুনগতমান জানতে হবে ও দক্ষ মার্কেটিং করতে হবে। আসুন আজ এ বিষয়ে আপনাদের জন্য কিছু ধারনা দিচ্ছি যাতে করে চা পাতার ব্যবসা Tea Business করলে আপনার ভাল লাভজনক হয়।

কেন করবেন চা পাতার ব্যবসা

আপনি পড়ালেখা শেষ করে বেকার হয়ে আছেন। বেকারত্বের গ্লানি কত কষ্টের তা শুধু বেকার লোকেরাই বোঝে। আপনি কেন করবেন চা পাতার ব্যবসা এটার উত্তর হল আপনার তো বেশি পূঁজি নাই ভাই। এছাড়া আপনি তো স্টক ব্যবসা করতে পারবেন না। তাই আপনাকে খুজতে হবে কম পূঁজিতে সহজ ও লাভজনক ব্যবসা। তাই আপনি নেমে পড়তে পারেন এই ব্যবসাতে। যেহেতু বাংলাদেশের সব অঞ্চলে চা খুব বেশি চলে তাই আমি আপনাকে এই ব্যবসায় নামতে বলছি। তবে অবশ্যই সব কিছু দেখে শুনে বুঝে নামতে হবে।

চা পাতার ছবি

আসলে চা পাতার ছবি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। ভাবেন যে অনলাইনে চা পাতার ছবি বা চা পাতার স্যাম্পল দেখে তারপর অর্ডার করবেন। আসলে এটি মোটেও ঠিক না। আপনি হয়ত ভাবেন যে চা পাতা পানির মধ্যে দিলেই চা হয়। আসলে তা ঠিক চা পাতা পানির মধ্যে দিলে চা হয় এবং তা খাওয়া যায়। তাইবলে চা পাতা তেমন না যে ছবি দেখেই চায়ের মান নির্ধারন করতে পারবেন। সব চা প্রায় দেখতে এক কিন্তুু সব চায়ের মান এক না। আপনি যেখান থেকেই চা পাতা কিনেন না কেন ব্যবসা লংটাইম করার জন্য ভাল চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করুন। তাই চা পাতার ছবি চেয়ে লজ্জা দিবেন না। তবে আপনি চাইলে প্যাকেট ও গোডাউন বা অফিসের ছবি চাইতে পারেন।

চা কত প্রকার ও কি কি

চায়ের রয়েছে অনেক প্রকার। তবে বাংলাদেশে সব রকম প্রকার বেশি চলে না। তাই আপনাকে ব্যবসা করতে গেলে যেগুলো বেশি চলে এবং যে অঞ্চলে চলে সেগুলো নিয়ে ব্যবসা করুন। সাধারনত বাংলাদেশে ব্লাক টি, গ্রীন টি এর প্রচলন বেশি। ব্লাকটি আবার ৩ ধরনের হয়ে থাকে।
1. লিফ চা : বিওপি, জিবিওপি, ওএফ, পিএফ।
2. ডাস্ট চা : পিডি, আরডি, ডিএম, ডাস্ট।
3. সিডি চা : সিডি পাউডা, সিডি ডাস্ট।
এগুলো আবার বিভিন্ন দামে ও বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্নরকম চা চলে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে চলে সিডি ডাস্ট ও সিডি পাউডার। অন্য অঞ্চলে প্রায় লিফ চা বেশি চলে। সিডি ডাস্ট চায়ের বৈশিষ্ট হলো লিকার হবে কালো আর কষ এ ভরপুর। এটি ছাঁকনির উপরে গরম পানি দিয়ে তৈরি করে। আর লিফ চায়ের বৈশিষ্ট হল সেটি ক্যাটলিতে গরম পানির মধ্যে দেয়।

চা পাতার নিলাম কেন্দ্র

চা একটি সরকারি ফসল তাই চা পাতা কিনতে হলে আপনাকে নিলামকেন্দ্র থেকে কিনতে হবে। চা পাতার অকশন হয় বাংলাদেশের দুটি জায়গায় একটি সিলেটের শ্রীমঙ্গলে অপরটি চট্রগ্রামে। তাই আপনি এখান থেকে চা পাতা কিনবেন। আর চা পাতার অকশন থেকে চা কিনতে গেলে অবশ্যই আপনাকে চা পাতার লাইসেন্স ও বিটার লাইসেন্স নিতে হবে। তাছাড়া আপনার চা পাতা কেনা অবৈধ বলে বলা হবে।

চা পাতার লাইসেন্স

আপনি যদি চা পাতার ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে চা পাতার লাইসেন্স নিতে হবে। চা পাতার লাইসেন্স নিতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ চা বোর্ড হতে আবেদন করে লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে টি বোর্ড আপনাকে লাইসেন্স প্রদান করবে। আপনি যে ক্যাটাগরির আবেদন করবেন। লাইসেন্স ছাড়া চা পাতার বাজারজাত করা দন্ডনীয় অপরাধ।

চা পাতার ডিলার

আপনার যদি কম পূঁজি থাকে তাহলে আপনি চা পাতার ডিলার নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তা নাহলে চা পাতার লাইসেন্স করতেই আপনার পূঁজি ফুরিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ইস্পাহানি চা , সিলন চা, নাম্বারওয়ান চা, ফিনলে চা, রেবনল চা, সেইফলি চা, তাজা চা সহ সেরা কোম্পানীগুলো দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ডিলার নিয়োগ দেয়। আপনি তাদের কাছ থেকে ডিলার নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

চা পাতার মার্কেটিং

আপনি চা পাতার মার্কেটিং করতে পারেন যে কোন এক বেলা। হয় সকালে করবেন নাহয় বিকেলে। কারন আপনি একটি দোকানে এক প্যাকেট ৫০০ গ্রামের চা পাতা দিলে এভারেজ ১ দিন যাবে। যে কোন একবেলা যদি মার্কেটিং করে দিনে ২০ কেজি চা পাতা বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০০ টাকার মত আয় করতে পারবেন। আর মার্কেটিং কত কষ্টের সেটা তো আপনারাই ভাল জানেন। আপনি চা পাতার সাথে দুধ ও চিনিরও মার্কেটিং করতে পারেন। এতে বাড়তি আয় হবে।

কোথায় থেকে চা পাতার ডিলার নিবেন

উপরেই বলেছিলাম কয়েকটি কোম্পানির কথা সেখানে যোগাযোগ করে চা পাতা কিনতে পারেন।বা ডিলার নিতে পারেন। আমার উপর যদি ছেড়ে দেন তাহলে বলতে পারি একটা ভাল কোম্পানির কথা। আপনি তো বড় বড় কোম্পানির সাথে চা ব্যবসা করতে পারবেন না তাই ছোট কোম্পানির কাছ থেকে আগে ডিলার নিন। এর জন্য সেইফলি চা কোম্পানি বা রেবনল চা Rebnal tea company কোম্পানী থেকে চা কিনতে পারেন। রেবনল চা কোম্পানি সিলেট থেকে চা পাতার পাইকারি দামে বিক্রি করে আর মানও ভাল এছাড়া দামও কম তাই তাদের কাছ থেকে চা পাতা কিনতে পারেন। রেবনল চা খোলা বস্তা সহকারে চা বিক্রি করে ও তাদের নিজেস্ব প্যাকেট এ চা পাতা বিক্রি করে। আমার মতে তাদের থেকেই চা পাতা কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যোগাযোগ করতে পারেন।

চায়ের মান কেমন

আগেই বলেছি যে চায়ের মান নির্ভর করে বাগানের উপর ও দামের উপর। আর কোম্পানির কাছ থেকে কিনলে নির্ভর করে ব্লেন্ডের উপর। আপনি যত দামি চা কিনবেন আপনার তত ভাল। সাধারনত ভালমারের ব্লেন্ডের চায়ের দাম নির্ভর করে লিফ চায়ের জন্য ২৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আর সিডি ডাস্ট চায়ের জন্য ২৯০ টাকা থেকে ৩১৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও ১৬০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে চা পাবেন বাট এগুলো দিয়ে মার্কেটিং করলে আপনি লসে পড়ে যাবেন। তাই ব্যবসা করতে হলে আপনি দামি চা পাতা দিয়ে ব্যবসা শুরু করুন।

চা ব্যবসার ঝুঁকি

সব ব্যবসার মত চা পাতার ব্যবসাতে রয়েছে ঝুঁকি। তবে চা পাতার ব্যবসার ঝুঁকি নিজেই ডেকে আনে নতুন উদ্দ্যোক্তরা। বিশেষ করে চা পাতার কেনার উপরেই ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনি যদি ভাল মানের ও ভাল দামের চা পাতা কিনেন তাহলে এ ব্যবসাতে ঝুকি কম থাকে। আর যদি কম দামে যেমন ১৫০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে চা পাতা কিনেন তাহলে আপনাকে ঝুঁকিতেই শুধু পড়তে হবে না। আপনি পূঁজি হারিয়ে বসবেন। বেশি লাভের আশায় কম দামের চা কিনে বিক্রি করতে যাবেন তো আপনি বিপদে পড়বেন, কোন চা দোকনী বিপদে পড়বে না। তাই এসব ঝুঁকিমুক্ত থাকতে বেশি দামের চা পাতা কিনে মার্কেটিং করুন। সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

শেষ কথা
আপনি যদি সৎ ও সুন্দর করে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাহলে আপনি সফল হবেন ইনশাআল্লাহ। আর বর্তমানে লকডাউন এর সময়ে প্রায় সকল ব্যবসা বন্ধ হয়ে আছে। আসুন আমরা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি যেন পুৃথিবীকে করোনা মুক্ত করে আবার সবাইকে সচল করে দেয়। এছাড়া সবাই সবাইকে সেইফ রাখার চেষ্টা করি। করোনা থেকে হেফাজতে থাকি এই কামনায় আজ এ পর্যন্তই।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

1 thought on “অল্প পূঁজির লাভজনক চা পাতার ব্যবসা করার সকল আইডিয়া”

Leave a Comment