৫ টি অল্প পুজির লাভজনক ডিলার ব্যবসা

অনেকের স্বপ্ন থাকে একটি ছোট প্রডাক্ট নিয়ে মার্কেটএ নামবে। এবং নিজেকে ডিলার ব্যবসা এর সাথে সমপৃক্ত করবে। কিন্তুু আমাদের প্রায় নতুন উদ্দ্যোক্তাদের জন্য যে কোন পণ্যের ডিলার নিতে ভয় পাই। অথবা নিজের তেমন ইনভেস্ট থাকে না। আমরা তখনেই সেখানে থেমে যাই। ইচ্ছে অনুযায়ী আর ব্যবসা করতে পারি না। তখন ঝুকে যাই আবার সেই চাকুরির পিছনে। তবে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। আপনি যদি ইচ্ছে করেন যে ডিলার ব্যবসা বা কমিশন ব্যবসা করবেন তাহলে পারবেন। তবে অল্প পুজি দিয়ে শুরু করা যায় এমন সব ব্যবসা করবেন। নিম্নে এই অল্প পুজির লাভজনক ব্যবসা করতে পারেন। চলুন দেখা যাকঃ

কসমেটিকস ব্যবসা

আপনি কসমেটিক ব্যবসা শুর করতে পারেন। প্রায় প্রত্যেক বাসায় দৈনন্দিন জীবনে কসমেটিকস লাগেই লাগে। তাই কসমেটিকস এর চাহিদা অনেক বেশি। আপনি একটা রিস্কি নিতে পারেন এই ব্যবসায়। আপনি শুরু করতে পারেন কসমেটিকস এর যে কোন একটা প্রডাক্ট নিয়ে ।

ধরুন আপরি তেল নিয়ে মার্কেটিং করবেন। এর জন্য অবশ্যই গ্লোসারী আইটেম কোম্পানীর সাথে চুক্তি করতে হবে। চুক্তি করে আপনি ঢাকা থেকে আপনার এলাকায় নিয়ে এসে সব কিছু কোস্ট হিসেব করে আপনি মার্কেটিং এ নামতে পারেন। মার্কেটিং করতে করতে একটা অবস্থায় ফিরে আসলে আপনি একটু কমিশন বাড়িয়ে দিতে পারেন। আপনি প্রথমে আপনার পণ্যের দাম বাড়াবেন না। আপনার পণ্যটি মার্কেট এ চললে আপনি দাম বাড়াতে পারেন। আর অবশ্যই একটা কথা মনে রাখবেন। যেন আপনি সঠিক সুযোগ সুবিধা আপনার দোকানীকে দিতে পারেন এবং কিছু কাস্টমারকেও দিতে পারেন। দিনে যদি আপনার কাছ থেকে ১০০ টি তেল বিক্রি হয় আর প্রতি বোতলে যদি সব খরচ বাদ দিয়ে ৫ টাকা করে থাকে তাহলে আপনার দৈনিক ইনকাম ৫০০ টাকা। আর মাসে ২০ দিনে ৫০০ করে রুজি হলে ৫০০X২০= ১০,০০০/- দশ হাজার টাকা। এখন নিজেরাই একটু হিসেব মিলিয়ে দেখতে পারেন। কমও হতে পারে বেশিও হতে পারে এটা স্বাভাবিক।

চা পাতার ব্যবসা

আপনি যদি পরিশ্রম করতে পারেন তাহলে আপনি আরও একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সেটি হলো সিলেট এর চা পাতার ব্যবসা। কোম্পানির সাথে চুক্তি করে আপনি এ ব্যবসায় নামতে পারেন। তবে ভাল মানের চা পাতা দিয়ে ও ভাল ব্রান্ডিংয়ের চা পাতা নিয়ে ব্যবসায় নামবেন। আপনি চা বিষয়ে আরও চানতে এখানে ক্লিক করে চা সমন্ধে বিস্তারিত জানতে পারেন। আর আমার দেখামতে পাইকারি চা পাতার দেয় এমন একটি কোম্পানী হলো রেবনল চা কোম্পানী। আপনি এনাদের সাথে চুক্তি করে ব্যবসায় নামতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ কেজি চা পাতা বিক্রি করেন এবং এখান থেকে প্রতিকেজি চা পাতা থেকে যদি আপনি ৩০ টাকা করে লাভ পেয়ে যান তাহলে আপনার ২৫X৩০= ৭৫০/- টাকা লাভ করতেছেন। এবার এভারেজ দিয়ে দেই ৭৫০X২০= ১৫,০০০/- হাজার টাকা আপনার প্রতিমাসে থাকতেছে। অবশ্যই এই হিসেবের সাথে আপনি বেশি লাভ করতে পারবেন এবং কম লাভ লাভ হবে।

 দুধের ব্যবসা

দুধ একটি সুষোম খাবার দিন দিন চাহিদা বেড়েই যাচ্ছে দুধের। আপনি যদি আপনার এলাকায় দুধের ব্যবসা করেন তাহলে অল্প দিনেই সফলতার দেখা পাবেন। তবে এই ব্যবসা একটু রিস্কির ব্যবসা। আপনাকে সব থেকে বড় চ্যালেন্স গ্রহন করতে হবে দুধ সংগ্রহ করার। দুধ এমন একটি পানীয় যে আপনার ক্রয় করতে কষ্ট হবে কিন্তুু বিক্রি করতে কষ্ট হবে না। তাই আপনি কষ্ট করে হলেও খাঁটি দুধ সংগ্রহ করুন। তারপর আপনি আপনার এলাকায় দোকান খুলে বসুন। যদি একবার আপনার নাম উঠাতে পারেন তাহলে আপনি নিজেও টাকার রাজ্যে উঠে যাবেন। দিনে ৫০ কেজি দুধ বিক্রি করতে পারেন। কেজি প্রতি যদি ২ টাকা থাকে তাহলে ১০০ টাকা..! চলবে ক্যামনে.???? বুদ্ধি আছে খাড়ান.. আপনি আপনার দোকানে বড় একটি কড়াইতে ২০ কেজি দুধ সিন্ধ করুন। প্রতিগ্রাস দুধে যদি আপনার ২ টাকা থাকে তাহলে প্রতিদিন ২০০ গ্লাসে ৪০০ টাকা । ঐদিকে আবার বাসা বাড়ির জন্য ১০০ টাকা পেয়েছেন। তাহলে হচ্ছে ৫০০/- টাকা। সাথে আবার পাউরুটি ও ডিম কলা বিক্রি করতে পারেন। তারমানে একের ভিতর চার… আপনার খায় কে ভাই? এভারেজ এ আপনার দিনে ৭০০/- টাকা থাকলে মাসে ২০X৭০০= ১৪,০০০/- হাজার টাকা। বিয়ে না করে থাকলে এখনেই বিয়ে বরুন… হাহা। বিঃদ্রঃ দুধের ব্যবসা কোন ডিলার ব্যবসার সাথে পরে না। আপনি এই দোকানের সাথে গুড়া দুধ, কৌটার দুধ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। আর দোকানে দুধ বিক্রির জন্য একটি ছেলে রেখে দিতে পারেন। তাহলে আপনি হিসেবে দুধে ব্যবসাটি ডিলার ব্যবসায় হিসেবে এখন ধরতে পারেন।

মোবাইল ফোনের ডিলার

আসলে এখানে বলা হবে মোবাই ফোনের এক্সারসরিজের ডিলার। মানে টেলিকম কোম্পানির ডিলার। যেমন গ্লাস পেপার, ডিস্প্লে, চার্জার, এ্যারফোন, হেডফোন, কেসিং, বাটন, ব্যাটরি সহ আপনি একের ভিতর সব কিছু কম টাকায় পাবেন। আপনি এসব কিছু নিয়ে যদি মার্কেট থেকে পরিশ্রমের মাধ্যমে সেল দিতে পারেন তাহলে আপনি ভাল আর্ণ করতে পারবেন। কারন এইসকল ব্যবসায় কাচা টাকা বেশি। আপনি যদি ছোট মার্কেট নিয়েও কাজে নামেন তাহলে আপনি সফল হবেন। শুধুমাত্র দোকানীদের সাথে যদি আপনি সমপর্ক তৈরি করে নেন তাহলে আপনাকে সেল করতে হবে না। দোকানীরা আপনার পণ্য সেল করে দিবে। আর এসব মোবাইলের এক্সসারসরিজ পাওয়া যায় ঢাকার গুলিস্থান ও চকবাজার এলাকায়। আপনি সেখান থেকে নিয়ে আসতে পারেন। এভারেজ এ আপনি দৈনিক ৬০০/- টাকা আয় করলে ২০X৬০০= ১২,০০০/- টাকা মাসে আয় করতে পারবেন।

মোবিল এর ব্যবসা

ব্যবসার মধ্যে একটু বেশি টাকা লাগে এই ব্যবসাটি করতে। তবে আপনি যদি একটু পুজি বেশি খাটিয়ে ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারেন তাহলে। অবশ্যই লাভ পাবেন। কারন আপনি দেখবেন এই ব্যবসার সাথে তেমন বেশি কেউ সমপৃক্ত নেই। আর গাড়ির চাকা ঘুড়লেই মোবিলের প্রয়োজন পড়ে । তাই আপনি চোঁখ বন্ধ করে এসব বিষয়ে জানতে পারেন। মোবিল সমপর্ক আরও তথ্য জানতে জিপি নেফ্ট থেকে সব কিছু জানতে পারবেন এবং এখান থেকে আপনি কমিশনে ডিলার নিতে পারেন। ইঞ্জিন অয়েলের চাহিদা মার্কেট এ খুব তাই আপনি একটু পরিশ্রম করলে সফলতার মুখ দেখতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিন এভারেজ ৬০০/- টাকা করে ইনকাম করতে পারেন তাহলে আপনার মাসিক আয়। ৬০০X২০= ১২,০০০/- টাকা আয়, তাহলে আর কে বা খায়।

উপরে ৫ টি লাভজনক ব্যবসার কথা বলে দিয়েছি। তবে সব সময় লাভের কথা বলেছি। আসলে ব্যবসার মধ্যে লাভ ও লস দুটাই আছে। আপনাকে সব সময় লস হবে এমন প্রিপারেশন নিয়ে থাকতে হবে। আপনার ব্যবসায় ঝুকি আসতে পারেন এমন কিছুও জমিয়ে রাখতে হবে ঝুকি কভার দেওয়ার জন্য। আপনি আবার হিসেব করতে পারেন ভাই আপনি ২০ দিনে মাস শেষ করে দিছেন কে..?.? আরে ভাই উত্তর হলো আপনি ব্যবসায়ি না.? মনে রাখতে হবে আপনি একজন উদ্দ্যোক্তা ও স্বাধীন। আপনি আপনার রুটিন নিজেকেই সাঝাতে হবে। পরিশ্রমের শরীরকে একটু রেস্ট দিতে হবে… ভাবিকে নিয়ে ঘুড়তে হবে, গালফেরেন্ড কে নিয়ে পার্কে যেতে হবে। এই সময়গুলো এখানে ধরেছি ভাই। পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি। এই কথাগুলো মনে রাখলে আপনি সফল হবেন ইনশাআল্লাহ্।

আজ এ পর্যন্ত থাকলো, পরবর্তী লেখা নিয়ে আবার হাজির হবো। আর যদি আপনার কোন প্রকার মতামত থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট বক্স এ লিখতে পারেন। আল্লাহ হাফেজ।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

2 thoughts on “৫ টি অল্প পুজির লাভজনক ডিলার ব্যবসা”

Leave a Comment