বিনা পুঁজিতে লাভজনক ১১ টি ব্যবসা করার A টু Z দেখুন

আপনি ব্যবসা করবেন আর মোটা পুঁজি লাগবে না এটা কেমন কথা..! হ্যাঁ আজ দেখাবো কিভাবে বিনা পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করা যায়। তাও আবার ১১ ধরেনের। শুরু করার আগে একটু লেকচার দিতে পারি? এই পোস্ট পড়তে পড়তে আপনি এখনেই ব্যবসায়ী হয়ে যাবেন কারন আমি জানি এই মহুর্তে আপনার হাতে একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ রয়েছে। আর সেই ফোনটি বা ল্যাপটপটি হলো আপনার বর্তমানের পুজি আর এই ফোন অথবা ল্যাপটপ কে ঘিড়েই আপনার বিনা পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করতে পারেন। আমার লেকচার দেওয়া শেষ এবার আপনাকে সেই বিনা পুজির লাভজনক ব্যবসা গুলো কি কি।

 ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট

 

এটার মানে আপনাকে এমন কিছু কোম্পানির কাছে কাজ করতে হবে যেগুলো একদম অনলাইনের উপর নির্ভর। তাদের কাছে থেকে আপনি কাজ নিতে পারেন। যেমন ওইসব কোম্পানীর ফোন রিসিভ করে তথ্য প্রদান করা। ই-মেইল এর প্রতি উত্তর দেওয়া সহ কাস্টমারের সব ধরনের সাপোর্ট দেওয়া। এসবেই হলো ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট এর কাজ। আপনাকে প্রথমে কাজ পেতে হবে। আর একবার কাজ পেয়ে গেলে আপনাকে আর ধরে কে? এখন এটি দেখার পর আপনি এমন সব কোম্পানী খুজুন এবং নিজের ব্যবসা ( কর্ম) করুন।

অনলাইন কনসালটেন

আপনি যদি কনসালটেন্ট সমদ্ধে খুব পারদর্শিতা হোন তাহলে আপনি এই অনলাইন কনসালটেন্ট ব্যবসাটি করে যেতে পারবেন। অনেক কনসালটেন্ট ফার্ম আপনাকে কাজ দিবে। তাদের কাজগুলো আপনি বুঝিয়ে দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে কোন ফার্মের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। ব্যস আপনার ব্যবসা শুরু হল এখন থেকে।

অনলাইন স্টোর

আপনি যদি আর একটি কাজ করতে চান তাহলে আপনি সেটি করেও ব্যবসা করতে পারবেন। আর সেই কাজটি হলো ফেসবুক পেজ ওপেন করে আপনাকে ব্যবসা করতে হবে। চিন্তার কারন নেই আপনাকে পুজি খাটাতে হবে না। আপনি এমন কিছু পণ্য পেজে এ্যাড করে দিন যেগুলোর মানুষের চাহিদা অনেক। আর আপনার হাতের নাগালোর মধ্যে। অর্ডার হলে আপনি শপ থেকে পণ্যটি আপনার কাস্টমারকে দিন এবং আপনার লভ্যাংশ আপনি নিয়ে আপনি যে শপ থেকে পণ্যটি এনেছেন সেখানে দিন। ব্যস আপনার ব্যবসা হচ্ছে বিনা পুজিতেই।

বিজনেস কোর্স

আপনি কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হলে সেই অভিজ্ঞতাটাকে ব্যবহার করতে পারেন উপার্জনের পথ হিসেবে। অনলাইনে বিশ্বের নানান দেশের মানুষজনকে শেখাতে পারেন আপনি যা জানেন। ধরুন আপনি দর্জি কাটিং সেলাই সহ সব কিছুতেই অনেক পারদর্শি। আপনি আপনার এই পারদর্শিতা কাজে লাগাতে পারেন অনলাইনে আপনি একটি টিম গঠন করে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। এমন করে যে যেসব কিছু বিষয়ে পারদর্শিতা তারা সেইসব কাজ করতে পারেন। আপনি আবার অনলাইনে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল তৈরি করেও চাইলে উপার্জন করতে পারেন। সেখান থেকে আপনার ইনকাম শুরু হবে।

কনটেন্ট রাইটিং

আপনি এই মহুর্তে অল্প পুজির ব্যবসা নিয়ে যে লেখাটি পড়তেছেন সেটিই হলো একটা কন্টেন্ট। আপনি যদি এইরক লেখা গুছিয়ে লিখতে পারেন এবং আপনি যদি ভাল স্টাডি করেন আর যদি আপনার সব বিষয়ে সাধারন জ্ঞান থাকে। তাহলে আপনি একজন হতে পারেন কন্টেন্ট রাইটার। বর্তমান সময়ে কন্টেন্ট রাইটারের মূল্য অনেক। আর যদি সেটা হয় ইংরেজি ভাষায় তাহলে আপনাকে পিছু ফিরে তাকাতে হবে না। আপনি প্রতি হাজার ওয়ার্ড লিখে দিয়ে হাজার টাকা ইনকাম করবেন। তার মানে আপনার একটি শব্দের দাম ১ টাকা করে। কি চমৎকার…

অনলাইন সেলার শপ

অনলাইনে কেনা টাকার বর্তমানে বর্তমানে বড় মাধ্যম হলো বাংলাদেশের জন্য দারাজ, ইভ্যালী, প্রিয় শপ সহ আনেক কিছু। আপনি এসব সাইট এ একটা অনলাইন স্টোর খুলে বসতে পারেন। আপনি প্রয়জনীয় কাগজ দিয়ে এসব ই-কমার্স থেকে একটি শপ খুলতে পারেন। আপনি সেখানে বিভিন্ন পণ্য আপলোড করে বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে পণ্যের সংগ্রহ রাখার এবেলেটি থাকতে হবে। যাতে কেউ অর্ডার করলে পণ্যটি সঠিক সময়ে ডেলিভেরি করে দিতে পারেন।

ইবে স্টোর মালিক

অনলাইনে কেনাকাটার ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে ইবে সারা পৃথিবী জুড়েই খুবই জনপ্রিয়। এক নামেই প্রায় শপিং করা লোকেরা চিনে। ভাবছেন সেখান থেকে কেমন করে আয় করা সম্ভব! আসলেই একটু খোঁজ খবর করলেই আপনিও ইবে স্টোর মালিক হয়ে যেতে পারেন। এটা হবে সম্পূর্ণই ভার্চুয়ালি, আবার মনে করবেন না যে আপনাকে পুরো দেকানটি ছেড়ে দিয়োছে এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে ইবে স্টরে প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য বিশাল ছাড়ে বিক্রি করে ইবে। মূল বুদ্ধিটা হলো, কম দামে পণ্য কিনে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করা।

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো একমন একটি মার্কেটিং যেটা আপনার পণ্য না কিন্তুু ক্রোতা আপনার মাধ্যমে প্রডাক্টটি কিনে নিল। ধরুন আপনি একটি টিভি বিক্রি করবেন এখন আপনাকে যে কোন একজন আপনার কাছে টিভির কাস্টমার এনে দিয়ে গেল ও যে কাস্টমার নিয়ে আসল সেই কাস্টমারটি আপনার টিভি কিনে নিল। এখন আপনার টিভি বিক্রি করার পর যে কাস্টমারটি আপনার কাছে কাছে নিয়ে এসে টিভি বিক্রি করে দিল তাকে অবশ্যই আপনি কমিশন দিয়ে দিবেন। ঠিক তেমনি হলো এফ্যালিয়েট মার্কেটিং। আপনি গুগুলে সার্চ করে এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি সহ বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেপলোপার

আপনি যদি অনলাইনে পারদর্শিতা হন তাহলে আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দামি কাজ দিতে পারবে অনেকেই যখন আপনি নিজেকে পরিচয় প্রদান করবেন যে একজন ওয়েব ডিজাইনার । আর ওয়েব ডিজাইনের কাজ অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আপনি এইকাজগুলো সব জায়গাতেই পাবেন। তাই এখন থেকে আপনি ওয়েব ডিজাইন করে আপনার ব্যবসা করতে পারেন।

স্যোসাল মিডিয়া

আপনি যদি স্যাসাল মিডিয়া পারদর্শী হোন, সেটা হতে পারে ফেসবুক অথাবা টুইটার আপনার যদি অনেক ফ্যান ও ফলোয়ার থাকে তাহলে আপনি আপনার প্রফাইলে যে কোন ভাল প্রডাক্ট বিক্রি করে শত শত ডলার থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে সেই সব কোম্পানির সাথে আলোচনা করতে হবে।

ভিডিও ব্লগিং

আপনি যদি ভিডিও ভালবাসেন তাহলে অবশ্যই ইউটিউব দেখেন। আর ইউটিউব থেকে যখন আপনি আয় করতে পারবেন তখন আপনার আরো ভাল লাগবে। আপনি এখন থেকেই সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরি করুন এবং ইউটিউব চ্যানেল খুলে আপতার তৈরি ভিডিও আপলোড করুন। এর পর আপনার আপলোড করা ভিডিওগুলো ভিউ বাড়তে থাকলে মনিটাইজেশন অন করে দিন। এখন থেকে আপনি গুগল এ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন।

উপরক্ত অল্প পুজির ব্যবসাগুলো যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন তাহলে আপনাকে আর বাহিরে টাকার জন্য যেতে হবে না। আপনি ঘরে বসেই হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য যে কাজটি করতে আপনাকে আপনি যে মেধায় পারদর্শী সেই মেধা খাটাতে হবে। লেগে থাকতে হবে কাজ পাওয়া জন্য দেখবেন একদিন সব কিছু হবে।

তাহলে আজ আপনারা পড়লেন আপনার হাতের মোবাইল ও ল্যাপটপ দিয়ে শুধুমাত্র ইন্টারনেট ব্যবহার করে লাভজনক ব্যবসা করতে পারেন। এখানে যে সব লেখা আছে ঠিক তার চেয়ে আরও দ্বিগুন কাজ মার্কেটপ্লেস এ আছে যেগুলো বলা হয়নি। তবে সামনে এগুলো বলে ফেলবো। আর আপনিও আজ বলে ফেলুন যে আপনি কোন বিষয়ে পারদর্শী… আরো বলতে পারেন আপনার যদি কোন রকম প্রশ্ন থাকে। তাহলে আজ এ পর্যন্তই থাকলো।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

2 thoughts on “বিনা পুঁজিতে লাভজনক ১১ টি ব্যবসা করার A টু Z দেখুন”

  1. ধন্যবাদ আপনার লিখার জন্য।
    আমি একটা বিজনেস কোর্স অথবা জব কোর্স শিক্ষায়তে চাই অনলাইনে বাংলা এবং ইংরেজিতে এই ক্ষেত্রে কি ভাবে শুরু করতে পারি? আমাকে একটি গাইডলাইন দিলে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকিব। যদি আপনার নাম্বারটা দেন তাহলে যোগাযোগ করিবো।

    Reply
    • ধন্যবাদ ভাই, বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন ও অফলাইন এ কোর্স করাচ্ছে এ বিষয় নিয়ে। আপনি কোন বিষয়ের উপর গাইডলাইন দিবেন এবং পরামর্শ দিবেন তা আপনি নিজেই সিলেক্ট করুন। আপনি প্রথমে শুরু করে দিন এরপর মার্কেটিং করুন। অবশ্যই অনেক ক্লাইন্ট পাবেন আপনার শিক্ষকতার জন্য। একদিকে ভাল উদ্দ্যোক্তা তৈরি করতে পারবেন অন্যদিকে আপনার আয় সৃষ্টি হবে। আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য onbusinesstouch@gmail.com এ মেল করুন।

      মতামত ও পরামর্শের জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ

      Reply

Leave a Comment