বিনিয়োগ করার সঠিক পদ্ধতি জানুন এর পর বিনিয়োগ করুন

বিনিয়োগ করা যতটা কঠিন,ঠিক ততটাই সহজ যদি আপনি সব কিছু নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে চাই বলে মনোস্থ করেন। তাহলে আপনি যে কোন যায়গায় সঠিক ভাবে বিনিয়োগ করে লাভবান হবেন। আর যদি আপনি কোন একটিতে ভুল করে বসেন তাহলে শেয়ার মার্কেট এ আপনার জন্য ছোট ছোট ভুলকে একদম নিচে নামিয়ে দিবে। পৃথিবীর সকল দেশে বিনিয়োগ করার একমাত্র পথ হলো শেয়ার বাজার মার্কেট। বাংলাদেশেও সবার জন্য সঠিক পন্থায় বিনিয়োগ করার জন্য ২ টি শেয়ার বাজার রয়েছে একটি হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আর অপরটি হলো চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেন্স বাংলাদেশের দুটি শেয়ার বাজারের মূল উদ্দেশ্য হলো পূঁজি বাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। এবং পূঁজি বাজারকে উন্নত করার জন্য অনেকেই পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আর এই দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ এ হাজার হাজার বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ বিনিয়োগ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। মোট কথা বলা চলে আপনি ঘরে বসে কোন কোম্পানির শেয়ার কিনে তার লভ্যাংশ পেয়ে যাবেন। আর অন্যটি হলো আপনার কেনা শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি হলে তা বিক্রি করতে পারেন। বাংলাদেশের হাজার হাজার ব্যবসায়ীরা এখানে শেয়ার কিনে ও বিক্রি করে। তাহলে কথা না বলিয়ে শুরু করা যাক শেয়ার বাজার বা বিনিয়োগ করতে চাই এর সকল আইডিয়া।

কিভাবে শুরু করবেন

আপনার পকেটের টাকা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করবেন। তার জন্য অবশ্যই আপনি সব কিছু দেখে শুনে বুঝে বিনিয়োগ করতে যাবেন। এর জন্য আপনাকে অনেকদিন চর্চা করতে হবে। যেমন ব্লগ পড়তে হবে, অনলাইনে ঘাটতে হবে, পত্রিকা পড়তে হবে, অনলাইনে পড়তে হবে, শেয়ার ব্যবসার বিভিন্ন দেশের ব্যাপক বই পড়তে হবে। অফলাইনে বাজার মনিটরিং সহ মার্কেটিং এর দক্ষতা নিতে হবে । এছাড়া আপনাকে আপনার আশে পাশের সফল বিনিয়োগকারির পরামর্শ নিতে হবে। আমার একটা কথা মনে আছে শহিদুল ইসলাম নামের একভাই অনেকদিন আগে বলেছিল তিনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন। অনেকদিন তিনি শেয়ার বাজার নিয়ে পড়েছেন ও চর্চা করেছেন। তারপর তিনি মাঠে নেমে পড়েছিলেন। প্রথম দিকে ব্যর্থ হয়েছিলেন কারন চর্চা করা, পড়া, একটা বিষয় আর মাঠে বিনিয়োগ করাও এটি বিষয়। তার মানে হল দুটির দুই রকম আবহাওয়া। তাই চর্চা করলেও আপনি প্রথমদিকে ব্যর্থ হতে পারেন এতে করে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি লেগে থাকুন অবশ্যই সফলতা পেয়ে যাবেন।

কিসের কিসের বিনিয়োগ পাওয়া যায়

আপনার মাথার উপর দিয়ে যাবে এসব কথা কারন পুৃথিবী চলছে ব্যবসার উপর। আর ব্যবসা নিয়ে লিখলে কোটি কোটি বই লিখলেও শেষ হবে না। বিশ্বে রয়েছে কোটি কোটি ব্যবসা। ব্যাবসার শ্রেণীয় রয়েছে লক্ষ লক্ষ তবে বাংলাদেশের ঢাকা স্টক এক্সচেন্স এ আপনি সব ধরনের পন্যের কোম্পানী , ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কোম্পানীর তালিকা রয়েছে। আপনি সেখান থেকে পছন্দমত শেয়ার কিনে নিয়ে আপনার পকেটের টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।

কিভাবে শুরু করবেন বিনিয়োগ ব্যবসা

অনেক কোম্পানি ইতিমধ্যেই শেয়ার দিয়েছেন আপনার জন্য। আর আপনার কাজ হলো ভাল কোম্পানিতে ভাল আইডিয়া নিয়ে শেয়ার কিনতে পারেন। এর জন্য আপনাকে হতে হবে দক্ষ ও অতীত চিন্তার প্রকৌশলী। আপনি মনকে বলবেন কোথায় শেয়ার কিনবেন। মন থেকে যে উত্তর আসবে সেই জায়গায় শেয়ার কিনতে পারেন। একটা জিনিস মাথায় রাখবেন। শেয়ার বাজারে প্রায় সব লোকেই শিক্ষিত আর শিক্ষিত হলেই যে শিক্ষিত বুদ্ধির লোক হবে তা নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির নিজেস্ব কিছু বুদ্ধিমত্তা থাকে যেগুলো সব কাজ করাতে ও জয় করতে পারদর্শী ।

বিনিয়োগ করতে যে সকল বিষয় জানা দরকার

আপনি সব কিছু ঠিক করে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন এবার। ইতিমধ্যে প্রাইভেট পড়েছেন বিরিয়োগ করার উপর একদম সব মুখস্থ হয়ে গেছে। কিন্তুু আপনি এই বিষয়গুলো যদি না যেনে থাকেন তাহলে আপনি কখনও সফল হতে পারবেন না। আর বিনিয়োগ করার মূল সুত্রগুলো এর মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। যেগুলো জানলে আপনি বিনিয়োগকারী হিসেবে যেমন ধারালো থাকবেন ঠিক তেমনি থাকবেন মজবুত:

Paid-Up Capital

শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য/ফেস ভ্যালু অনুযায়ি সকল শেয়ারের মোট মূল্য। তার মানে কোন কোম্পানীর শেয়ারের মোট মূল্য আপনাকে জেনে বিনিয়োগ করতে হবে।

Rebnal Tea

The authorized capital

কোন কোম্পানীর সর্বচ্চ মূল ধন ( আপার লিমিট) বিষয়ে আপনাকে জানতে হবে এবং জ্ঞান থাকতে হবে ।

Market value

আপনাকে বর্তমান বাজারের মার্কেটভ্যালু জানতে হবে বা বাজারের মূল্য জানতে হবে।

Face value

শেয়ারের প্রাথমিক মূল্যের উপর ভিত্তি করে কোম্পানি ক্যাশ বোনাস ঘোষণা করা হয়। আমাদের দেশের বাজারের প্রয় সব শেয়ারের ফেস ভ্যালু এখন ১০ টাকা।

Price Earning Ratio (P/E)

কোন কোম্পানির বর্তমান বাজার মূল্য ও তার আয়ের অনুপাত হিসেবে নির্ধারন করা হয়। আপনি একটি গানিতিক হিসেবে মনে করতে পারেন কোম্পানির ‘ক’ এর শেয়ার প্রতি আয় ১০ টাকা। এবং মার্কেট এ চলতি মূল্য হচ্ছে ১৬০ টাকা। তাহলে আপনি দাম ও আয়ের অনুপাত আকারে হিসেব করলে এমন হবে ১৬০/১০= ১৬ । এই হিসেবটাতে আপনার যত বেশি হবে তাহলে আপনার শেয়ার বিনিয়োগ ততটা খারাপ আর যদি ২০ এর বেশি চলে যায় তাহলে আপনি শেয়ারের ঝুকিপূর্ণ স্থানে রয়েছেন। আর যত কম হবে তাহলে বুঝে নিবেন আপনি লাভের দিকেই আছেন।

Net Asset Value (NAV)

এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই আপনাকে একটু বেশি মনোযোগ সহকারে পড়ে বুঝতে হবে। কারন এটি শেয়ার বাজারে নিট সম্পদ নিয়ে ধারনা দেয়। একটি কোম্পানির ২ ধরনের উৎস থেকে তারা মূলধন সংগ্রহ করে – শেয়ারধারীদের মুলধন হতে ও ধার/দেনা বা ব্যাংক ঋণ হতে। এই মূলধনে অর্জিত সম্পদ থেকে সব ধরনের লোন বাদ দিলে পাওয়ায় যায় নিট সম্পদ। ধরুণ কোম্পানি ‘ক’ এর নিট সম্পদ ১০০০ টাকা এবং মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ টি । সুতরাং শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ হল ১০০০/১০=১০০ টাকা । এটা যতো বেশি হবে সেই শেয়ার ততো ভাল এবং এর দাম ও বেশি হবে।

Earning Per Share (EPS)

এটি হচ্ছে শেয়ার প্রতি আয় এর হিসেব। মনে করুন একটি কোম্পানির শেয়ার ‘ক’ এর মোট বাৎসরিক আয় ২০০ টাকা এবং সেই কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা ২০ টি। তাহলে গানিতিক হিসাব করলে দাড়ায় ২০০/২০ = ১০ টাকা। এই হিসেবটি যত বেশি হবে আপনার শেয়ারের মান তত ভাল হবে। বিনিয়োগ করতে গেলে আপনাকে উপরক্ত বিষয়গুলোর উপর নজর দিবেন বিশেষ গুরত্বসহকারে। তাহলে আপনার বিনিয়োগ করতে সমস্যা কম হবে।

বিনিয়োগের ঝুকি সমূহ

বিনিয়োগে ঝুকি নিয়ে লিখলে অনেক গল্প কবিতা লিখে শেষ করা যাবে না। তবে এক কথায় প্রকাশ করে বলা হলে বলা যেতে পারে বিনিয়োগের দুই ধরনের ঝুকি থাকে – প্রথম ঝুকি বিনিয়োগকারীরাই বিনিয়োগের জন্য বড় ঝুকি। কারন নিত্য নতুন সময়ে অনেকেই না বুঝে বিনিয়োগ শুরু করে দেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা ঝড়ে পরে ও সচল বিনিয়োগকারীকেও ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়। আর ২য় ঝুকি হচ্ছে কিছুটা এই জিনিসগুলোর উপর যেমন : বাজার ঝুঁকি, কর্তব্য পালনের ঝুকি, সুদের হারের ঝুঁকি, দায় ঝুঁকি ও অর্থের ঝুঁকি। একটি কথা স্বরন করিয়ে দেই তা হলো কোথায় ঝুঁকি নেই? প্রশ্ন থাকল আপনার উপর। আর অবশ্যই দৌড়ানের আগে হাটতে থাকুন, পরিবেশের আবহাওয়ার সাথে আপনার শরীরকে মিলিয়ে নিন তারপর দৌড়ানে শুরু করুন।

বিনিয়োগে ঝুকি এড়াতে করণীয়

পৃথিবীতে এমন কোন ব্যবসা নেই যে তার মধ্যে কোন ঝুকি নেই। তার পরেও কেউ কিন্তুু থেমে নেই। থেমে নেই জন্যই ঝুকিপূর্ণ ব্যবসাগুলো করেই অনেকেই কোটিপতি হয়ে গেছে। তেমনি বিনিয়োগে ঝুকি এড়াতে আপনি কিছু কাজ করতে পারন। এই কাজগুলো করলে আপনার বিনিয়োগ করার সহজ করে দিবে। আপনি শেয়ার বাজারের একাডমেকি শিক্ষা নিতে থাকুন, মার্কেট যাচাই করুন ও সব কোম্পানী সকল তথ্য নিতে থাকুন বিশেষ করে যে সকল কোম্পানি সব সময় শেয়ার বাজারের উপরে থাকে। এছাড়া ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্কিত পত্রিকা, ডিএসইর নিউজ পড়ুন। শেয়ারবাজারে থাকা কোম্পানিগুলো খোঁজ-খবর এখানে পাবেন।

বিনিয়োগের শেষ কথা

উপরে আপনাদের জন্য সুন্দর সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে কোটেশন অনুযোগী বলতে পেরেছি আপনার সুবিধের জন্য। আপনি আমার লেখার প্রত্যেকটি বাক্য রিচার্চ করুন মনে মনে। আর মন থেকে উত্তর নেওয়ার চেষ্টা করে মার্কেট এ বিনিয়োগ করতে পারেন। এছাড়া আর একটি পথ আপনাকে বলে দিচ্ছি এই পথ অনুশরন করে আপনি কিছুটা দক্ষ হতে পারেন সেটি হল আপনার কাছে ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। আপনি সেই টাকা দিয়ে ভার্সুয়াল বিনিয়োগ কিনুন। আপনি যদি দেখেন যে লাভের মুখ দেখতে পেরেছেন তাহলে তা বিক্রি করে দিন আর যদি লস হয় তাহলে কৌশলে বাচার চেষ্টা করুন।

আপনার লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়তে উৎসাহ দিতে পারেন। আর যদি কোন বিষয়ে আপনার প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমি উত্তর দিব। আল্লাহ হাফেজ।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment