ব্যাংক লোন কি ও এর এর সকল পলিসি বিস্তারিত দেখুন

 

ব্যাংক লোন শব্দটি শুনলেই কেমন জানি মনে একরকম আগ্রহ হয়ে উঠে। ব্যাংক লোন নিয়ে অনেকেই আছে বিপাকে আবার অনেকেই ব্যাংক লোনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেছে। ব্যাংক লোনের জন্য সব থেকে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে নতুন উদ্দোক্তারা। অনেকেই বলে ‘ইস্ যদি আমার ২০ লক্ষ টাকার একটা লোন পেতাম’ তাহলে না কত সুন্দর করেই স্বপ্নকে সাঝিয়ে নিতাম। আবার অনেকেই এই ব্যাংক লোন নিয়ে বিপাকে ও চিন্তায় মাথা নষ্ট হওয়ার পথে। ব্যাংক লোন কোন ধরনের নেশাও না, পেশাও না… বলতে গেলে যারা বিয়ে করে নাই তারা বিয়ের স্বাদ বোঝে নাই, আবার যারা বিয়ে করেছে তারা ঠিকেই স্বাদ বুঝেছে। ঠিক তেমনেই হলো ব্যাংক লোন। আপনি ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক লোন নেন কিংবা অন্য কোন কারনে ব্যাংক লোন নেন যদি আপনার সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে আপনি ব্যাংক লোন পাবেন। আজ আমরা আলোচনা করব ব্যাংক লোন সমন্ধে, আর ব্যাংক লোনের বিস্তারিত কিছু জানবো।

ব্যাংক লোন কি

আমরা সচারচার সবাই লোনের সাথে সমপৃক্ত। কেউ বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া থেকে শুরু করে বউয়ের কাছে টাকা নেওয়াটা এক ধরনের লোন। অথবা আপনি আপনার ফ্যামিলির মাধ্যম থেকে লোনের সাথে সমপর্ক তৈরি করে এসেছেন। আপনি ধার দেনা ঋণ যেটাই বলেন না কেন এগুলো হলো লোন। মোট কথা ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে থাকেন সেটাকেই ব্যাংক লোন বলা হয়।

লোন কত প্রকার ও কি কি

ব্যাংক লোন বাংলাদেশ সমন্ধে রয়েছে লোনের প্রকার ও প্রত্যেক লোনের জন্য রয়েছে নিদৃষ্ট নীতিমালা। অনেক ধরনের লোন বাংলাদেশে আছে। তার মধ্যে সব থেকে বেশি প্রচলিত লোন হচ্ছে ব্যক্তিগত লোন bank loan personal, হোম লোন, কৃষি লোন, বিজনেস লোন, আমরা এই লোনগুলোর সাথে বেশি পরিচিত । আরও লোন সমপর্কিত বিষাদ জানতে আপনার নিকটস্থ কোন ব্যাংক বা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় লোন সমপর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়

আপনি যদি মনে করেন যে আপনার লোনের দরকার। তাহলে আপনাকে ব্যাংক থেকে লোন নিতে হবে। আর ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সমন্ধে আপনি আপনার নিকটস্থ ব্যাংক বা আপনার পছন্দমত ব্যাংক থেকে ব্যাংক লোন আবেদন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিন। ব্যাংক কতৃক আপনার সব কিছু বিচেচনা করে যদি আপনি ব্যাংক লোন পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হন তাহলে আপনি লোন পাবেন। বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন রকমের লোন প্রদান করে যাচ্ছে গ্রাহকদের জন্য। আবার বিভিন্ন ব্যাংক কিন্তুু তাদের নিজেস্ব নামে ( ভিন্ন) একাউন্টও ওপেন করে থাকে। ব্যাংকিং সেক্টর যেহেতু অনেক বড় একটি সেক্টর তাই আমরা আজ কিছু ব্যাংক এর লোনের প্রকার ও নাম জানাবো, তবে ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং এর সকল লেখা সময়ের প্রেক্ষিতে তুলে ধরব।

ব্রাক ব্যাংক লোন সমূহ

বর্তমানে সব থেকে লোনের দিক থেকে সবার মাঝে পরিচিত রয়েছে ব্রাক ব্যাংক। আমরা কম বেশি এই ব্যাংক এর সাথে পরিচিত। বাংলাদেশে ব্রাক ব্যাংক ১৪ ধরনের লোন দিচ্ছে সেগুলোর মধ্যে উল্ল্যেখ যোগ্য হলো : স্যালারি লোন, ব্রাক ব্যাংক অটো লোন, আপন ঘর হোম লোন, কুইক লোন বা দ্রুত ঋণ, এসএমই ব্যাংকিং, অনন্য লোন, অপূর্ব লোন, অরগ্য লোন, দ্বিগুন লোন, প্রথমা লোন, বিজনেস লোন, ডিস্ট্রিবিউট লোন। আপনি ইচ্ছে করলে যে কোন ব্যাংক থেকে নগদ লোন নিয়ে তা ব্যাংক লোনের কিস্তি হিসেবে দিতে পারবেন। চলুন এক নজরে বাংলাদেশের ব্যাংক এর নাম সমূহঃ

বাংলাদেশে বে-সরকারি কিছু ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আপনি Bank Loan নিতে পারবেন। বে-সরকারি ব্যাংক হল :

• ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক লোন।
• পূবালী ব্যাংক লোন।
• ব্যাংক এশিয়া লোন।
• দি সিটি ব্যাংক লোন।
• আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক লোন।
• ইসলামী ব্যাংক লোন।
• সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লোন।
• মধুমতি ব্যাংক লোন।
• মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লোন।
• এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লোন।
• স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লোন।
• আই এফ আই সি ব্যাংক লোন
• ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লোন।
• মিডল্যান্ড ব্যাংক লোন।
• প্রিমিয়ার ব্যাংক লোন।
• ইউনাইটেড কমার্শিয়াল লোন।
• এবি ব্যাংক লোন।
• এনআরবি ব্যাংক লোন।
• ব্র্যাক ব্যাংক লোন।
•  ইস্টার্ন ব্যাংক লোন।
• ইউনিয়ন ব্যাংক লোন।
• লংকা বাংলা ব্যাংক লোন।
• আইডিএলসি ব্যাংক লোন।

বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক থেকেও আপনি লোন নিতে পারবেন এই সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যাংক হল:
• কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন।
• সোনালী ব্যাংক লোন।
• রুপালী ব্যাংক লোন।
• অগ্রণী ব্যাংক লোন।

আপনি উপরক্ত যে কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। বর্তমান সরকার উদ্দ্যোক্তা তৈরি করার সরকার। তাই আপনি ব্যাংক লোনের জন্য bank loan apply করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে পারবেন। আর অবশ্যই লোন নেওয়ার আগে প্রত্যেক ব্যাংক এর bank loan department  লোকদের সাথে কথা বলুর এবং ব্যাংক লোনের সুদের হিসাব জেনে শুনে ব্যাংক থেকে লোন গ্রহন করবেন। সেই সাথে জেনে নিতে পারেন bank loan a debit or credit এর হিসাব সমূহ।

ব্যাংক লোনের যাকাত

ব্যাংক লোনের যাকাত কীভাবে দিবেন?

আপনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিভাবে যাকাত প্রদান করবেন এ বিষয়ে অনেক ধরনের মতামত রয়েছে। তবে মৌলিকভাবে যাকাত ফরজ হয় চারটি জিনিসের উপর।
• স্বর্ণ।
• রুপা।
• নগদ টাকা।
• ব্যবসায়িক পণ্য।
এখন আপনি ব্যাংক লোন নিয়েছেন। এখন ইসলামী শরিয়া মোতাবেক আপনাকে ব্যাংক লোনের যাকাত দিতে হবে এ নিয়ে আপনি পড়েছেন বিপাকে। আমিও কোন ইসলামি চিন্তাবিদ না বা কোন ব্যাংকার না । তবে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে ব্যাংক লোনের যাকাত এর সমন্ধে সুন্দর একটি মতামত পেলাম মতামতটি ঠিক এই রকম

‘ধরি জনৈক ব্যক্তির যাকাত যোগ্য সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। আর তিনি ৫০হাজার টাকা ব্যাংক লোন নিয়েছেন। আর লোনের টাকা দিয়ে তিনি ব্যবসায়িক পণ্য কিনেছেন। যা যাকাত যোগ্য পণ্য। তাই তিনি যাকাতের হিসেব থেকে ঐ টাকা বাদ দিতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ, তিনি এখন ৫০ হাজার টাকার যাকাত দিবেন। আর যদি তিনি ব্যাংক লোন দিয়ে বাড়ি করে থাকেন বা ফ্ল্যাট কিনে থাকেন। বা এমন কোন খাতে খরচ করে থাকেন , যা যাকাতের যোগ্য নয় । তাহলে তিনি যাকাতের হিসেব থেকে এ পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তিনি পুরো একলাখ টাকার যাকাত হিসেবে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে।
অর্থ্যাৎ, ব্যাংকলোন আর যাকাতের মাঝে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যাংকলোন যদি যাকাতের উপর্যুক্ত চার খাতের কোন খাতে খরচ করা হয়, তাহলে মোট হিসেব থেকে লোন পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন। আর যদি উপর্যুক্ত চার খাতের বাইরে অন্য খাতে লোন খরচ করেন, তাহলে তিনি মোট হিসেব থেকে লোন পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন না।

উপরক্ত ব্যাংক লোনের যাকাত সমন্ধে আমার খুব পছন্দ হয়েছে । আপনি ব্যাংক লোনের যাকাত সমন্ধে জানার জন্য ইসলামি চিন্তাবিদ থেকে ভাল পরামর্শ নিতে পারেন।

ব্যাংক লোন করোনা

ব্যাংক লোন বনাম করোনা সময়ে পৃথিবী হয়েছে একদম নিরব। ইতিহাসের ভয়ঙ্কর করোনা সময়ে ব্যাংক লোন সব ধরনের লোন ও সব ধরনের কিস্তি আপাতত বন্ধ রেখেছে। ব্যাংক লোন করোনা এর কারনে বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ব্যাংক এর দিকে প্রভাব ফেলেছে অপরদিকে ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংক লোন ২০২০ সালের জন্য এই বছরটি সব থেকে করোনাময় বছর। করোনা শেষ হলে বা তার আগেই হয়তো ব্যাংক লোন চালু করতে পারে। আর চালু করলেই আপনি ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট ও লোন ক্যালকুলেটর করে সব কিছু বুঝে শুনে লোন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।

ভাই আমি কোন ইসলামি চিন্তাবিদ না বা কোন ব্যাংকার, তবুও আপনাদের মাঝে অনেক স্ট্যাডি করে ব্যাংক লোন সমন্ধে ধারনা দিচ্ছি মাত্র। তবে আমি যদি ব্যাংকিং নিয়ে ধারাবাহিক লিখি তাহলে অবশ্যই ব্যাংক সমন্ধে ও ব্যাংক লোন সমন্ধে বিস্তারিত জানতে পারেন। এছাড়া উদ্দ্যোক্তাদের জন্য সব সময় বাংলাদেশ ব্যাংকিং নিয়ে লিখে যেতে চাই এই কামনা রইল সবার প্রতি।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment