মশার কয়েল তৈরি ও ব্যবসা করার সকল আইডিয়া

বর্তমানে বসবাসের জন্য সব থেকে শত্রুটি হয় মশা। আর মশা মারার জন্য কয়েলের দরকার হয় আমাদের। আজ লিখবো মশার কয়েল তৈরি ও ব্যবসা করার আইডিয়া। রাতের সময় মশার কামড় খেয়ে মনে পড়ে যেটা প্রথম, সেটিই হলো কয়েল। বাংলাদেশে কয়েল এর মার্কেট অনেক বড় মার্কেট। আপনি এই কয়েলের ব্যবসা দুই ধরনে করতে পারেন। একটি হলো কয়েল তৈরির ফ্যাক্টরি দিয়ে অপরটি হল ফ্যাক্টরি থেকে কয়েল কিনে নিজে মার্কেটিং করে আয় করা। চলুন শুরু করা যাক কয়েল ব্যবসার সকল পদ্ধতি। তার আগে বলে রাখা ভাল যে আপনি কয়েল তৈরি করেন বা কয়েল মার্কেটিং করে বিক্রি করেন সেটি অবশ্যই হালাল ও রাষ্ট্রের সকল নিয়মকানুন মেনে বিপনন ও বিক্রি করবেন।

কয়েল ফ্যাক্টরি দিতে গেলে আপনাকে যেসব করতে হবে

 

কয়েল ফ্যাক্টরি দিলে গেলে অবশ্যই আপনাকে ফ্যাক্টরি, অফিস, শ্রমিক সব কিছুই লাগবে। এছাড়া আপনাকে বড় বড় মেশিন কিনে আনতে হবে। যদি বাংলাদেশে নয়, বাহিরের দেশ জার্মানি, জাপান, চায়না বা অন্য কোন দেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসতে হবে। তারপর সেগুলো আপনাকে আপনার কয়েল ফ্যক্টরিতে বসাতে হবে। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে ম্যান পাওয়ার ( ইঞ্জিনিয়া, ইলেক্ট্রিশিয়ান, শ্রমিক) রাখতে হবে। আপনাকে কয়েল তৈরির যে সকল মেশিন রাখতে হবে সেটা আপনার ইচ্ছে তবে সর্বনিম্ন দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার থেকে ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মেশিনের দাম আর অটো মেশিনগুলো পাওয়া যায় বার লক্ষ থেকে পয়ষট্টি হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়াও নিম্নে কিছু কয়েল তৈরির মেশিন ও দাম সহ দেওয়া হলঃ

১২ লাখ টাকা ৪ পাঞ্চ মেশিন
১৮ লক্ষ টাকার ৭ পাঞ্চ মেশিন ।
৩২লক্ষ টাকার ১২ পাঞ্চ মেশিন।
৬৫ লক্ষ টাকার ২১ পাঞ্চ মেশিন ।

এছাড়া এই সকল মেশিনের জন্য রয়েছে নানা রকম পার্টস, আপনাকে এসব পার্টস কিনে নিতর হবে অবশ্যই। আর এসব পার্টস ও পার্টসের দাম ক্রমানুযায়ী দেওয়া হলোঃ

১. ৬০ কেজি মিক্সার মেশিন
২.হাইপ্রেসার কুন্ডলি লেয়ার স্লোব তৈরি মেশিন কনভেয়ারসহ।
৩. একটি পাঞ্চ কাটিং মেশিন ঘণ্টায় ২ হাজার ক্যাপাসিটি ।
মশার কয়েল শুকানো জন্য রুম ড্রাইয়া সিস্টেম প্রসেসিং ।
৪. দুই সেট কয়েল কাটিং পাঞ্চ মেশিন।
মূল্য- ৬ লক্ষ ৫0 হাজার টাকা।
৫. দুটি মডেলের দুই সেট কয়েল ডাইস যেটি
২ বছরের গ্যারান্টি।

এই সব পার্টস ও সকল প্রকার সরাঞ্জাম আপনি দরদাম করে কয়েলের মেশিনের আমদানীকারকের কাছ থেকে নিতে পারেন। আপনার কয়েল তৈরির মেশিন কেনা শেষ এবার আপনার ফ্যক্টরিতে বসিয়ে সরকারের কাছে অনুমোদন নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। সরকার যদি সব কিছু পরিদর্শন করে আপনার ফ্যক্টরি ঠিক পায় তাহলে আপনি কয়েল তৈরি করার অনুমোদন পাবেন। আর চালু হয়ে গেল আপনার কয়েল ফ্যাক্টরি। আর সরকারের কাছে অনুমোদন নিতে গেলে আপনাকে নিম্নের কাগজগুলো অবশ্যই লাগবে। সেই কাগজগুলো হলোঃ
০১.পি এস পি লাইসেন্স
০২.ট্রেড লাইসেন্স
০৩. ট্রেডমার্ক
০৪.পরিবেশের ছাড়পত্র
০৫.ফায়ার লাইসেন্স
০৬.প্রসেস ফ্লোচার্ট
০৭. কারখানার লে আউট
০৮.ভ্যাটের সকল কাজগপত্র
০৯. আয়কর প্রত্যয়ন পত্র
১০.পরিবেশগত অনাপত্তি সনদপত্র
১১.কৃষি সমপ্রসারণ কর্তৃক প্রদত্ব সনদপত্র
১২. বিএসটিআই লাইসেন্স ও যদি সরকার মনে করে আপনার কাছ থেকে আরো কাগজ ও লাইসেন্স লাগবে তাহলে সেগুলো অবশ্যই আপনাকে দিতে হবে।

এ পর্যন্ত আপনি কারখানা করেছেন, মেশিন কিনেছেন ও কয়েল তৈরি করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন এবার আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটা হলো কারখানা চালু করা। আর কয়েল ফ্যক্টরি চালু করার জন্য আপনাকে কয়েল তৈরির কাচামাল আনতে হবে। কয়েল তৈরির কাচামাল আপনি বাংলাদেশে কম পাবেন তাই আপনাকে আবার চিন, জাপান, জার্মানি ও ইন্ডিয়ার কাছে যেতে হবে। আপনি সেখানে না গিয়ে প্রথমে আমদানিকারকের সাথে সরাপন্ন হতে পারেন। আপনার চাহিদা অনুযায়ী আমদানিকারকেরা আপনার কয়েল তৈরির সকল কাচামাল আপনার ফ্যক্টরিতে পৌছে দিবে। নিম্নে কিছু মশা তৈরির কাচামালের নাম দেওয়া হলঃ

০১.পাইরেথ্রাম ( কেনিসিয়াম) ।

০২.পাইরেথ্রিনস।

০৩.অ্যালেথ্রিন( এটি ডি-ট্রান্স-অ্যালথ্রিন)।

০৪.এসবিথোথ্রিন।

০৫.ম্যাপফ্লুথ্রিন (পাইরেথ্রয়েড এস্টার) ।

০৬.ডাইমফ্লুথ্রিন।

০৭. পাইপারনিল বাটক্সাইড (পিবিও)।

০৮.বিএইচটি (বাটলেটেড হাইড্রোক্সিটোলিউইন)।

০৯.এমজিকে ২৬৪ এন (অক্টাইল সাইক্লোহপটিন ডিকারবক্সিমাইড)।

এই কাচামালগুলো আপনাকে অবশ্যই আনতে হবে। উপরক্ত ক্যামিক্যাল এর মশার কয়েল তৈরি করার জন্য বিভিন্নটার বিভিন্ন কাজ রয়েছে। নিচে সংক্ষেপে বলা হলো আপনি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিতে পারেনঃ

পাইরেথ্রাম

এটি একধরনের গাছের গুড়া এবং একদম প্রাকৃতিক এবং গাছটির নাম কসিনিয়াম। এই কসিনিয়াম গাছের ফুল থেকে তৈরি হয় পাইরেথ্রাম। কসিনিয়াম গাছের ফুল এতো সুন্দর দেখতে যে আপনি মনে করবেন যেন এটি ফুল নয় এটি অলংকার।

পাইরেথ্রিনস

এটি একটি রাসায়নিক যার নির্যাস হলে পাইরেথ্রিনস কিটনাশক যাহা অর্গানিক কম্পাউন্ড। এটি পোঁকা মাকরের নার্ভাসকে দুর্বল করে দেয়। মূলত এই পাইরেথ্রিনস মশাকে তাড়াতে খুবেই কাজ করে। শুধু মশা নয় এই কীটনাশক জমির ফসলের পোঁকা মাকরকেও তাড়াতে সহায়তা করে।

অ্যালেথ্রিন

এটিও এক ধরনের কীটনাশক, যেটি মশা তাড়াতে সাহ্য করে এবং ফসলের পোঁকা মাকরকে তাড়াতে সাহায্য করে।

এসবিথোথ্রিন

এটি অ্যালথ্রিনের একটি রূপ যা রিলেটেড সিন্থেটিক কম্পাউন্ডের একটি গ্রুপের অংশ। এ গ্রুপটি মূলত সিন্থেটিক পাইরেথ্রয়েড। এটি সাধারণভাবে আল্ট্রা লো ভলিউমের স্প্রেতে ব্যবহার করা হয় যা এখন মশার কয়েলেও কম বেশি পাওয়া যায়।

ম্যাপফ্লুথ্রিন

একটি পাইরেথ্রয়েড এস্টার। পাইপারনিল বাটক্সাইড (পিবিও): পাইরেথ্রয়েডের কার্যকারিতা মশা তাড়াতে অনেক বেশি দেয়।

ডাইমফ্লুথ্রিন

এটি একটি পাইরেথ্রয়েড কীটনাশক। যেটি মশার কয়েল তৈরি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক।

পাইপারনিল বাটক্সাইড

এটি এমন একটি কীটনাশক যেটি মশা তৈরি করার সংযোযক হিসেবে কাজ করে এবং পাইপারনিল মশার কয়েল তৈরি করার জন্য একটি দ্রব্য।

বিএইচটি

এটি এমন একটি পদার্থ যার কারনে মশার কয়েল জ্বলার সময় পাইরেথ্রয়েডকে অক্সিডাইজিং প্রতিরোধ করতে ব্যবহৃত একটি অপশনাল সংযোজক। মশার কয়েলে এটি ব্যবহার করা হয় যাতে করে মশার কয়েলের মাথায় কয়লার মতো ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকা অংশ থেকে অক্সিজেনের সাথে মিশে বাহিরে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।

এমজিকে ২৬৪ এন

এটি এমন একটি উপাদান যেটি পাইরেথ্রিয়েডকে উন্নত করার জন্য কাজ করে।

তাহলে আপনার ফ্যক্টরি তৈরি করা হয়েছে, মেশিন বসানো হয়েছে , সব কিছু ঠিক থাকলে এতোদিনে আপনি অবশ্যই ফ্যাক্টরি চালু করার জন্য অনুমোদ পেয়েছেন আবার একদিকে আপনার অর্ডার করা মশা তৈরির সব কাচামাল গোডাইনে চলে এসেছে। এবার আপনি উপরওয়ালার কাছে ভরসা রেখে শুরু করতে পারেন।

মশা মারার কয়েলের কারখানা থেকে ইতিমধ্যেই আপনার প্রডাকশনের কাজ শুরু হয়েছে। এবার সুন্দর করে ডিজাইন করে পুক্ত প্যাকেজিং থেকে প্যাকেজিং করে বাজারে ছেড়ে দেওয়ার পালা। তবে চিন্তা করবেন না দক্ষ মার্কেটিং হলে আপনার গোডাউনে কয়েল একটিও থাকবে না শুধুমাত্র ( ভাঙ্গা রিটার্ণ) ছাড়া। ভাঙ্গা কয়েলগুলো আপনি আবার পরবর্তী সময়ে প্রডাকশনের জন্য দিতে পারেন। ইতি মধ্যেই কিন্তুু আপনার কয়েলের কারখানা পুরোদমে চালু হয়ে গিয়েছে। এখন আপনি কয়েল বিক্রি করার জন্য দেশের সকল থানা ও জেলা পর্যায়ে ডিলার বা পরিবেশক নিয়োগ দিয়ে মার্কেটিং করে ব্যবসা করতে পারেন। প্রথম অবস্থায় সব ব্যবসার নিউটনের ৩য় নম্বর সুত্রের মত কাজ করবে ( প্রত্যেক ক্রিয়ার, বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে) তার মানে হল আপনি প্রথমে সব কিছু করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে অনেক বাধা ও বিপত্তির মুখে পড়তে পারেন। যদি আপনার মনোবল ঠিক থাকে তাহলে লক্ষমাত্রায় পৌছে যাবেন। আর পৌছে গেলে আপনার ছোট ভাইকে (আমাকে) একটু মনে রাখিয়েন। কিছু না নিলেও এক প্যাকেট বৈধ কয়েল নিমু।

পরিশেষে দু চার কথা না বললেই নয়__ আপনি কয়েল ব্যবসায় নামছেন ভাল কথা, শুধুমাত্র আমার পোস্ট পড়ে এই ব্যবসা করতে নামবেন না। আপনি কয়েল তৈরি নিয়ে আরও কিছু দেখুন জানুন ফ্যাক্টরি ভিসিট করুন। তার পর ভেবে চিন্তে শুরু করে দিন। ঘাবড়ানোর কোন কারন নেই অনেকেই তো কয়েলের ব্যবসা করতেছে। তাই আপনি কেন পারবেন না। আর একটি অনুরোধ থাকলো সেটি হলো আপনি কখনও অবৈধ পথে ব্যবসা করতে যাবেন না। সব কিছু ঠিক ঠাক মত কাজ করে ব্যবসা করতে নামুন। মনে রাখবেন আপনার ব্যবসা করার জন্য রাষ্ট্রের অনেক আইন ও হক রয়েছে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের কাছে হক ও অধিকার রয়েছে। একটু সব কথাগুলো বিবেচনা করে দেখতে পারেন। আর বেশি কিছু লিখলাম না, আজ এ পর্যন্তই থাকলো।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment