লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া এর জন্য উদ্দ্যোক্তাদের ৫১ নিয়ম খুবেই গুরুত্বপূর্ণ

আপনি নতুন ব্যবসা করতে যাচ্ছেন। নতুন লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া এর জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু নিয়ম পালন করতে হবে। বর্তমানে নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তারা হুট করেই ব্যবসার দিকে অগ্রসর হয়। অনেক না জেনে না শুনে সব ব্যবসার মাঝে নেমে পড়ে। এতে করে কেউ ব্যবসা করে লাভবান হয় আবার কেউ পূঁজি হারিয়ে পথে বসে থাকেন। আসলে সব কিছুরেই একটা লে আউট আছে। ব্যবসা মানেই যে লাভবান হবেন এর কোন গ্যারান্টি নেই। আবার ব্যবসা করে যে পূঁজি হারিয়ে বসবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আপনি বড় ব্যবসা, মাঝারি ব্যবসা, কৃষি ব্যবসা যেটাই করেন না কেন। আপনাকে সব সময় নিয়ম মেনে করতে হবে। আপনি সব সময় মনে রাখবেন আপনি স্বাধিন ভাবে ব্যবসা করছেন ভাল কথা। কিন্তু আপনার মনকে বুঝিয়ে দিন যে আপনি যদিও ব্যবসা করছেন এটাও এক ধরনের জব। আর অনেকেই আছেন ব্যবসা করতে নেমে সব কিছু বাদ দিয়ে ব্যবসার পিছনে জীবন বাজি রাখে। এটাও ঠিক না। আজ আমরা আলোচনা করবো ব্যবসা করলে একজন উদ্দ্যোক্তার প্রতিদিনের রুটিন কেমন হওয়া উচিৎ। আপনি এগুলো সব সময় মানার চেষ্টা করবেন তাহলে সফলতা আপনার কাছেই ঘুরবে।

০১ বই পড়া

একজন উদ্দ্যোক্তা যদি মনে করেন তার ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু নেই তাহলে সেই ধারনাকে পাল্টাতে হবে। আপনি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনি প্রতিদিন একটি সময় বের করে নিন বই পড়ার জন্য। বই পড়লে যেমন আপনার জ্ঞানে নতুন কিছু আসবে ঠিক সেই সাথে আপনার মন ভাল থাকবে। আপনি পড়ার মধ্যে এগুলো পড়তে পারেন যেমন: সাধারন জ্ঞান, ইতিহাস ঐহিহ্য, রম্য রচনা, সফলতার গল্প, মার্কেটিং, ব্রান্ডিং, অনুগল্প, গল্প কবিতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

০২ খবর পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন

আপনি প্রতিদিন সকালে আপনার প্রতিষ্ঠানে খবর পড়তে পারেন। দৈনিক পত্রিকা যদি অভ্যাস না থাকে তাহলে আপনি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করে ফেলুন। এতে করে আপনি দেশের খবর, দেশের বাহিরের খবর নিয়ে সব দিকের খবর জানতে পারবেন। বিশেষ করে আপনি অর্থনীতি, ব্যবসা বানিজ্য পাতা ও ব্যবসার ট্যাপলেট পত্রিকার উপর বেশি নজর দিতে পারেন।

০৩ শিল্প সম্মেলন পরিদর্শন

আপনি একজন উদ্দ্যোক্তা, অবশ্যই আপনি শিল্পের সাথে সমপৃক্ত। আপনার আশে পাশে নানা ধরনের সরকারি বা বে-সরকারি শিল্প সম্মেলন হয়। আপনি সেগুলোতে যোগ দিতে পারেন। এখানে অনেক কিছু শেখার আছে। আপনি প্রত্যেকটি শিল্প সম্মেলন থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া শিখতে পারবেন। এখানে আপনার মনকে যেমন চাঙা করে তুলবে অপরদিকে আপনি আপনার ব্যবসার সাকসেস পথটি খুজে পাবেন।

০৪ আপনার প্রতিযোগিদের দেখুন

ধরুন আপনি শিং মাছ চাষ করে মাছের ব্যবসা করেন। আপনার মত ঠিক একই বাজারে অনেকেই মাছের ব্যবসা করে। আপনি ও তারা আপনাদের পরস্পরের প্রতিযোগি। আপনি তাদের ফলো করতে পারেন। এখানে ফলো করা মানেই কপিরাইট না। আপনি তাদের থেকে নতুন কিছু শিখতে পারেন। যা আপনার ব্যবসাকে নতুনত্ব করতে সাহায্য করবে।

০৫ নতুন নিয়ম তৈরি করুন

বর্তামানে যেটা সব থেকে বেশি লক্ষ করা যায় সেটি হলো নতুন নিয়মের পরিবর্তন। আপনি যদি আপনার ব্যবসার পলিসি ঠিক ১০ বছরের পুরানো নিয়মে পরিচালনা করেন তাহলে এটা আপনাদের জন্য সব থেকে বড় ভুল। কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী আপনি নতুন নিয়ম চালু করুন অথবা আপনি এমন কিছু নিয়ম চালু করুন যাতে পণ্য কেনা থেকে বিক্রি করা ও ডেলিভেরি দেওয়া সহজ হয়। মোট কথা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আপনি নতুন নতুন নিয়ম তৈরির চেষ্টা করুন।

০৬ নতুন প্রযুক্তি তৈরি করুন

আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য নতুর নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করুন। বর্তমানে স্যোসাল মিডিয়ার গুরত্ব অপরিসীম। একদিকে যেমন আপনার পণ্য সেল বাড়বে অপরদিকে আপনার সব প্রডাক্ট সহজেই সবাই দেশে ও দেশের বাহিরে থেকে দেখতে পারবে। এছাড়াও আপনাে সাথে যে কোন জায়গা থেকে সহজেই সবাই যোগাযোগ রাখতে পারবে।

০৭ সখ

প্রত্যেকটি নতুন উদ্দ্যোক্তাই কিন্তুু প্রথমে সখ হিসেবে ব্যবসা শুরু করে। মানুষের জীবনে সখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার কোন সখ নেই সে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। তাই প্রথমে সখ করে হলেও যে কোন কিছু করা শুরু করে দিন। দেখবেন একদিন আপনি সেই সখ থেকেই বড় কিছু হতে পেরেছেন। বড় হয়ে আবার সখ ছেড়ে দিবেন না। সখ সব সময় মনের মধ্যে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এখান থেকে আবার কোন নতুন কিছু সৃষ্টি হতে পারে।

০৮ অপরিচিতদের সাথে কথা বলা শিখুন

আপনি যদি কথা বলতে না পারেন তাহলে আপনার জীবন বৃথা , আবার অনেকেই আছে যে তার অপরিচিত লোকদের সাথে কথা বলতে পারে না। এগুলো স্বভাব যদি আপনার মাঝে থাকে তাহলে পরিবর্তন করে ফেলুন। অপরিচিতদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে আপনি তাদের পরিচিত করতে পারবেন। এখান থেকে আপনার কাস্টমার সার্কেল তৈরি হবে ও নতুন নতুন কাস্টমার পেয়ে যাবেন অপ্লদিনর মধ্যে। মনে রাখবেন প্রায় কাস্টমার আপনার অপরিচিত থেকে পরিচিত হয়।

০৯ নেটওয়ার্ক সহ কর্মীদের সাথে যোগাযোগ

আপনি আপনার প্রতিষ্টানের জন্য বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করুন। এর সাথে আপনার বিশ্বাস্থ কর্মীদের সমপৃক্ত করতে পারেন। আপনি দেশ ও দেশের বাহিরে খু্ব বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করার কারনে আপনার পণ্য বিক্রির পরিমান বৃদ্ধি পাবে। যে কোন কিছু যদি নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে না করতে পারেন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন না। ব্যবসার জন্য সঠিক নেটওয়ার্ক বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনে।

 

১০ সামাজিক কাজে সময় দিন

আপনি একজন উদ্দ্যোক্তা, তাই বলে সব সময় একঘরে আর কাজ নিয়ে থাকবেন তা কখনও হয় না। একজন উদ্দ্যোক্তাকে সব ধরনের সামাজিক কাজে যোগদান করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি বিয়ে আকিকা, সব বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করুন এবং অন্যদের মাঝে পরিতিত করতে থাকুন। আপনি সমাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থাকতে পারেন। একদিকে যেমন আপনি সমাজের উপকার করতে পারতেছেন অপরদিকে আপনি পরিচিত লাভ করতে পারতেছেন।

১১ দলের সাথে যোগাযোগ করুন

আপনি যে কোন স্বেচ্ছাসেবী বা রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে পারেন। এইগুলো আপনি পেশায় পরিনত করা বিরত রেখে নেশায় পরিনত করুন। আপনি এই দলগুলোর মাঝে যোগদান করে সপ্তাহে একদিন বা দুদিন কিছু সময় দিন। এর থেকে আপনি ও আপনার ব্যবসা পরিতিচি লাভ করবে। আর আপনি যদি এইগুলো পেশায় রুপান্তরিত করেন তাহলে ব্যবসা গুটিয়ে একদম এদের সাথে সমপৃক্ত হোন।

১২ বৈশ্বিক গোত্রিয় সমাধান নিন

আপনার ব্যবসায় যদি কোন ধরনের অপনতির দিকে যেতে থাকে তাহলে আপনি আপনার কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ডেকে মিটিং করুন এবং উন্নত করার সুযোগ ও পরিকল্পনা করুন। আপনার ছোট কর্মচারীকে আপনি অবহেলা করা থেকে বিরত থাকুন। তার মাধ্যমে আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা ও সমাধান আসতে পারে। এই কথাটি মাথায় রাখুন, আপনি উদ্দ্যোক্তা বলে আপনার সব কিছুই ঠিক তা একদমেই নহে।

১৩ ব্যবসার উন্নতি

অনেকের ব্যবসা দিন দিন অবনতি হয় আবার অনেকের উন্নতি হয়। এর কারন হলো আপনি সঠিক সময়ে ব্যবসা উন্নতি করার পরিকল্পনা না করার কারনে। আপনি প্রতি মাসে মাসে ব্যবসা উন্নত করার পরিকল্পনা করুন ও বাস্তবে তা রুপান্তরিত করুন। আপনি ব্যবসা উন্নত করার জন্য একবারে মোটা অর্থের ব্যয় করার দরকার নেই। এ কারনে হয়তো উন্নতির চেয়ে অবনতির দিকে অগ্রসর বেশি হবে।

১৪ ধন্যে মগ্ন

আপনি ব্যবসা করলে ও নতুন উদ্দ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পরিকল্পনা করলে আপনাকে ব্যবসার ধ্যানে মগ্ন থাকতে হবে। ধ্যানের মাধ্যমে আপনি মনের মধ্যে আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা গুলোকে গুচ্ছিত করুন এবং দু চোখ দিয়ে তা স্বপ্নের মাধ্যমে দেখতে থাকুন। আপনার মন যদি বলে এসব ঠিক তাহলে আপনি সেই অনুযায়ী কাজ করুন। আর যদি আপনার মন বলে এসব একদমেই ঠিক না তাহলে আপনাকে বিরত থাকা উত্তম। খারাপ ধ্যানে মগ্ন না থেকে ভাল ধ্যানে মগ্ন থাকুন। সারাদিন শুধু ধ্যানে মগ্ন থাকবেন এটা একদেই করবেন না। এক পর্যায়ে রোগ হয়ে যাবে এসব করলে।

১৫ ঘুম

আপনাকে সঠিক সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে। আপনি নিয়মিত প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ঘুমান। আপনার ঘুম যদি ঠিকমত হয় তাহলে আপনার দিনটি হবে সুন্দর। ঘুমানোর আগে আপনার আজকের দিনের সকল কথা মনের মধ্যে নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিনের কথা রাতের মধ্যেই মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সুন্দর করে ঘুমিয়ে নতুন দিনের আশায় থাকুন।

১৬ স্বাস্থ্যকর খাবার

একজন উদ্দ্যোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার অতি গুরত্বসহকারে দেখতে হবে। কারন স্বাস্থ্যকর খাবারের কারনে মস্তিষ্কে ভাল কার্যকরিতা বাড়িয়ে দেয়। আপনি নিয়মিত সুষম ও পুষ্টি সমপর্কে জানতে হবে এবং এগুলো খেতে হবে। এছাড়াও আপনি কার্বোহাইড্রেট, প্রটিন ও সুস্থ ফ্যাট যুক্ত খাবার তালিকায় রাখুন। আপনি নিয়মিত এগুলো খেয়ে যান। আপনার স্বাস্থ ঠিক থাকবে। এছাড়া আপনি নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

১৭ ব্যায়ম করুন

কথায় আছে ‘ একটি সুস্থ শরীর, একটি সুস্থ মনের জীবন’ তাই আপনাকে নিয়মতির যে কোন একটি সময়ে ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়ম করলে বসে বসে থাকার কারনে একদিকে যেমন আপনার পেটের মেদ দুর হয় অপরদিকে আপনার শরীর ঠিক থাকে এবং আপনার মন চাঙা হয়। বর্তমানে প্রায় জায়গায় জীম সেন্টার রয়েছে। আপনি সেখানে গিয়ে ভর্তি হয়ে ব্যায়ম করতে পারেন আবার বাড়ির ছাদে বা রাস্তায় দৌড়ে ব্যায়ম করতে পারেন।

১৮ বুদ্ধিজীবী হতে শিখুন

আপনি আপনার মস্তিস্কে সচল রাখার জন্য বুদ্ধির গেম খেলুন। বিশেষ করে ক্যালকুলেশন গেম খেলার অভাস্থ করুন। আ্যান্ড্রোয়েট বা কম্পিটারে এসব গেম রয়েছে গুগল প্লে স্টরে। আপনি গুগল প্লে স্টর থেকে এসব গেম ডাউনলোড করার মাধ্যমে আপনার অবসর সময়ে এসব গেম খেলুন ও আপনার মাথাকে হিসেবের দিক থেকে চাঙা করে তৈরি করুন। ব্যবসার মুল সূত্র হল হিসাব নিকাশ এটা কথা ভুলে যাবেন না।

১৯ কৌশলগত পরিকল্পনা করুন

আপনার ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা করুন। আপনার কৌশলগুলোও হতে হবে ব্যবসাবান্ধব। আপনার সুন্দর কৌশলের কারনে অন্যদের তুলনায় একধাপ এগিয়ে যেতে পারেন নিমিষেই। এভাবে নতুন নতুন সময়ে নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করে চালিয়ে যেতে শিখুন। কৌশল হতে পারে আপনার কথার মাধ্যমে, আপনার পণ্যের মাধ্যমে অথবা আপনার ডেলিভেরির মাধ্যমে। ব্যবসার জন্য কৌশলের কোন বিকল্প নেই, এর থেকে আপনি আপনার কাস্টমারদের সাথে দির্ঘমেয়াদী ব্যবসা করতে পারবেন।

২০ হাটতে শিখুন

আপনি ছোট বাচ্ছা নন, যে হাটতে পারেন না। আপনাকে দিনে যে কোন স্থানে যেতে হলে হেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। হেটে যাওয়ার কারনে আপনার একদিকে যেমন পয়সা সেভ হলো অপরদিকে আপনার শরীর ঠিক থাকলো। হাটলে শরীর মন উভয়েই ঠিক থাকে। প্রতিদিন আপনি সর্বনিম্ন ১ কিলোমিটার হাটুন।

২১ অভিযোজন করুন

ব্যবসা করার সময় অবশ্যই আপনার কোন না কোন কারনে যে কোন বিষয়ে ভুল হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। আবার আপনি বর্তমানে যে ব্যবসা করতেছেন সে ব্যবসায় আপনি সফলতার ফল নাও পেতে পারেন। তার জন্য আপনার ব্যবসা পরিবর্তন করতে পারেন অথবা আপনার ভুলগুলো অভিযোজন করতে থাকুন। একই ভুল বার বার হলে আপনি অন্য পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকিন।

২২ শিক্ষা অর্জন করুন

বর্তমান সময়ে সবার উপরে থাকতে হলে অবশ্যই শিক্ষা অর্জন করা ভিষন গুরুত্বপূর্ণ। আপনি শিক্ষাকে এমন চোখে দেখুন যে আপনার প্রতিদিনের কাজ ও প্রতাদিনের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোকে শিক্ষা হিসেবে বিশ্বাস করে নিন। ব্যবসা করার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার যেমন দরকার আছে ঠিক তেমনি কারিগরি শিক্ষা অর্জন করার দরকার রয়েছে। আপনি সব রকম শিক্ষা থেকে ব্যবসায় কাজে লাগাতে পারবেন।

২৩ নিজের পিছনে ব্যয় করুন

আপনি একজন কোয়ালিটি পূর্ণ উদ্দ্যোক্তা, কিন্তুুু আপনার চলাফেরা বা আপনার পোষাকে সেগুলোর কোন লক্ষন নেই। সেটা একদমেই হয় না, আপনাকে চলাফেরা ও সব সমাজে মেশার জন্য আপনার পিছনে অবশ্যই টাকা ব্যয় করতে হবে। আপনি যতটা পরিচ্ছন্ন ঠিক ততটাই আপনার মন ও ব্যবসা পরিচ্ছন্ন বলে আপনার ক্লাইন্ড মনে করবে। তাই আপনার চলাফেরা ও পোষাকের উপর বাড়তি ব্যয় করতে শিখুন। আপনার লভ্যাংশ সব বালিশে কিংবা ব্যাংক এ থাকবে তা কিন্তুু নয়।

২৪ নতুন কার্যক্রম তৈরি করুন

আপনার ব্যবসাকে সামনের দিকে অগ্রসর করার জন্য নতুন নতুন কার্যক্রম নিতে পারেন। এগুলো কার্যক্রম সঠিক পরিকল্পনা করে তৈরি করুন। আপনার নতুন কার্যক্রমের কারনে আপনার ব্যবসার উপর ও আপনার সময়ের উপর প্রভাব ফেলবে। তা থেকে দুরে থাকুন। আপনি সব সময় সহজ ও ব্যবসাবান্ধব কার্যক্রমের উপর নজর দিন। এমন নতুন নতুন কার্যক্রমে আপনার ব্যবসার ফলাফল ভালোর দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে।

২৫ পারিশ্রমিকের দিকে নজর দিন

আপনি ব্যবসা করছেন ভাল কথা, আপনার ব্যবসার মুল প্রাণ হচ্ছে আপনার কর্মচারী ও শ্রমিক। আপনি তাদের সঠিক সময়ে সঠিক পারিশ্রমিক প্রদান করুন। সঠিক পারিশ্রমিকের মাধ্যমে যেমন আপনার কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা খুশি হবে, অন্যদিকে তারা আপনার ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আগ্রহ আরও বেশি হবে। আপনি নিজেও তাদের সাথে কাক করুন। আপনি নিজে কাজ করলে যেমন আপনি আরও পারদর্শী হলেন অপরদিকে আপনার সঙ্গীরাও উৎসাহ পেয়ে যাবে।

২৬ ছোট থেকে শুরু করুন

আপনি যদি কোন ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন তাহলে ছোট থেকে পরিকল্পনা করা ভাল। আপনি বড় আকারে শুরু করলে আপনার ঝুঁকি সব থেকে বেশি হবে। কোন কারনে ব্যবসায় লসের সম্মুখীন হলে আপনি ঘুরে দাড়াতে পারবেন না । এমনকি এই ভুলের কারনে আপনাে জীবনে উদ্দ্যোতার দিকে অগ্রসূচনা নাও হতে পারে। তাই আপনি ছোট থেকে শুরু করুন। ছোট থেকে ব্যবসা শুরু করলে আপনি সহজেই লাভ লসের হিসাব মিলাতে পারবেন। যদি কোন সময়ে আপনি লসের মুখে পড়েন তাহলে যেন আপনার জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে অবশ্যই চিন্তা করেই ব্যবসায় নামবেন।

২৭ নেতিবাচক যুদ্ধ

আপনার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা চলে আসতে পারে, সেটা আপনার ব্যবসার কর্মিদের থেকে, আপনার কাস্টমার থেকে অথবা আপনার কোন পার্শবর্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। আপনি অবশ্যই এগুলো সমাধান করবেন নেতিবাচক যুদ্ধের মাধ্যমে। আপনি সব সময় এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য চেষ্টা করুন। আর এসব প্রশ্রয় দেওয়া থেকে একহাত দুরে থাকতে পারেন। এগুলো আপনার ব্যবসায় বড়ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও সামাজিকভাবে।

২৮ দলের মধ্য থেকে চাপমুক্ত থাকুন

আপনি ব্যবসার যে দায়িত্বে আছেন ঠিক অন্যরা অন্য দায়িত্বে রয়েছেন। আপনি যদি সবার দায়িত্ব মাথান মধ্যে নিয়ে রাখেন তাহলে কিছুই হবে না। আপনার কাজটি আপনি সঠিক সময়ে সুন্দর করে গুছিয়ে করার চেষ্টা করুন। অন্যদের অল্প সময়ে সব বুঝিয়ে দিয়ে আপনি আপনার কাজে মনোনিবেশ করুন। মাঝে মাঝে অন্যদের কাজ মনিটরিং করলেও একদম অন্যদের কাজ মাথায় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থেকে নিজেকে চাপমুক্ত করুন।

২৯ আবেগ থেকে দুরে থাকুন

আপনার ব্যবসা মানে আপনার সব কিছু। একজন ব্যাবসায়িকের কখনও ব্যবসার মধ্যে আবেগ সৃষ্টি করতে নেই। আপনার অতিমাত্রার আবেগের কারনে ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আবেগের মধ্যে আপনি পন্য ক্রয় করা থেকে বিরত থাকুন ও বিক্রয় করা থেকেও দুরে থাকুন। শুধু ব্যবসি নয় সব জায়গা এমনকি প্রেম ভালবাসা থেকে শুরু করে সংসার জীবনে আবেগ থেকে দুরে থাকাই ভাল। আবেগের কারনে অনেকের সুন্দর জীবন নষ্ট হওয়া হয়তো নিজের চোখেই দেখেছেন।

৩০ গ্রাহক সেবা সন্তুষ্টকরণ

আপনাকে গ্রাহকের চাহিদা মত সব কিছু করতে হবে । যে কোন ব্যবসায় সব থেকে বড় চ্যালেন্স হচ্ছে গ্রাহক সেবার চাহিদা পূরন করা। আপনি আপনার সব সেবা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূর্ণ করুন। মনে রাখবেন আপনি সেবার মাধ্যমে আয় করে থাকেন, তাই গ্রাহক সেবার সর্বত্তম দিকগুলো বিবেচনা করতে হবে। গ্রাহক সেবা যদি বেশি প্রদান করতে পারবেন আপনার নাম তত বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। এভাবে একদিন আপনি চূড়ায় উঠে যাবেন।

৩১ ব্যক্তিগত সময় নিন

আপনার নিজের জন্য সময় বের করে নিন। আপনি কিছুদিন পর পর নিজের মনকে প্রফুল্লিত করার জন্য কোথাও ঘুড়ে আসুন। আপনি সেজন্য সুন্দর সুন্দর চমকপ্রদ জায়গা ভিসিট করতে পারেন অথবা আপনি এমন কোথাও ঘুরতে যান সেখানে ভাল কিছু দেখতে পারবেন সেইসাথে আপনি সেখান থেকে শিক্ষালাভ করতে পারবেন। দেশে ও দেশের বাহিরে আপনার জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর দর্শনীয় স্থান আপনার জন্য অপেক্ষা করতেছে। আপনি একা অথবা পরিবার সহ ঘুরে আসতে পারেন।

৩২ পরিপূর্ণতা ভুলে যান

আপনি যদি নিজেকে মনে করেন আপনি সাকসেস, তাহলে ব্যবসার জন্য বা যে কোন উদ্দ্যোগের জন্য এটা সমপূর্ণ ভূল ধারনা। প্রত্যেক মানুষ তার মনের মধ্যে পরিপূর্ণতা লাভ করলেও বাস্তবে তার সাথে কোন মিল নেই। আপনি সব সময় নতুন থেকে নতুন কিছু করতে শিখুন। সারাজীবন কাজ করলেও জীবনের শূণ্যভাগ আপনি পরিপূর্ণতা পাবেন না। কোন কাজে সাকসেস হলে আবার নতুন কাজে হাত দিয়ে আয় করার পথ খুজথে থাকুন।

৩৩ অটোমেশন ব্যবহার পরিহার করুন

ধরুন আপনার প্রতিষ্ঠানে যে কোন একটি কাজ করতে আপনি বা আপনার সহকর্মীরাই যতেষ্ট। কিন্তু আবার ঐ কাজের জন্য কোন যন্ত্র রয়েছে। আপনি কি যন্ত্রের সাহায্যে কাজটি করবেন নাকি মেনুয়ালি কাজটি করবেন। এটা আপনাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নিশ্চয়ই। আসলে যদি খুব বেশি দরকার হয় তাহলে মেশিন ব্যবহার করুন। আর যদি মনে করেন যে কাজটি আপনি নিজ হাতেই করতে যথেষ্ট তাহলে আপনি নিজেই করবেন বা আপনার লোক দিয়ে করিয়ে নিবে। যন্ত্রের উপর নির্ভর করা মোটেও ঠিক নয়। আপনি অটোমেশন পরিহার করে দিন।

৩৪ ভ্রান্তি দুর করে ফেলুন

আপনি কোন কাজ করে যদি সন্দেহ হয় তাহলে আপনি আবার কাজটি বা হিসব করুন। কথায় আছে ব্যবসার মাঝে সন্দেহ থাকতে নেই। একটি কাজ বার বার করেও যদি আপনার মনে সন্দেহ থাকে তাহলে অন্যদের পরামর্শ নিতে পারেন। কারন সবার শ্রবন সব সময় ঠিক থাকে না। এর জন্য আপনি যন্ত্র ও হিসেব করার জন্য ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।

৩৫ পরিপক্ক বায়ুমন্ডল নির্বাচন করুন

আপনার ব্যবসার জায়গা সব সময়ে সুন্দর বায়ুমণ্ডলে রাখুন। এর থেকে আপনার প্রতিষ্ঠান খুব সুন্দর থাকবে। সেইসাথে আপনি ও আপনার কর্মচারী সহ সবাই ভাল আবহাওয়ায় থাকতে পারবে। কোথায় একদম রোদ আবার কোথায় একদম দূর্গন্ধযুক্ত বাতাস। এসব থেকে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে। এই বিষয়গুলোকে আপনি কখনই অবহেলার চোখে দেখবেন না। এখানেও আপনার প্রতিষ্ঠানিক ব্যবসার সুত্র মিশে আছে।

৩৬ কর্মিদের কঠোর বিচার না করা

মানুষ মাত্রই ভূল, একজন মানুষের ভুল হতেই পারে এটা স্বাভাবিক। আপনার কর্মি যদি আপনার প্রতিষ্ঠানে যে কোন কারনে ভুল করেই বসে তাহলে আপনি কঠোরভাবে বিচার না করে তাদের ভুলগুলো তুলে ধরুন ও তাদেরকে বুঝিয়ে বলুন। এর পরেও যদি সব সময় একই ভুল করে তাহলে আপনি তাকে অন্য কাজে নিয়োজিত করুন। মনে রাখবেন আপনি সৎ ও উদারতার পরিচয়ে সব জায়গায় সম্মান পাবেন।

৩৭ আপনার ব্রান্ডের প্রচার করুন

আপনি আপনার ব্রান্ডের প্রচার করুন সব জায়গায়। বর্তমানে খুব সহজে বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার ব্রান্ডের প্রচার করতে পারেন। আপনি মার্কেটিং কি ও কত প্রকার কি কি এবং কিভাবে কাজ করবেন এগুলো বিষয়ে বিষাদ বই পড়ে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রান্ডিং করতে পারেন। আপনার প্রচার যত বেশি হবে আপনার পণ্য বিক্রির পরিমান তত বেশি হবে।

৩৮ আপনাকে কঠিন হতে হবে

নতুন উদ্দ্যোক্তাদের জন্য সব সময় বড় একটি বিষয় হল কঠিন হওয়া। আপনি নিজেকে অনেক কঠিন তৈরি করে ফেলুন। আপনি সব সময় সব হিসেব কঠিন হয়ে করতে হবে। এছাড়া পণ্য কেনার সময়েও আপনাকে কঠিন হতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠানের সব কিছু ঠিক আছে কিনা তা সক সময় যাচাই করতে হবে। কোথাও কোনরকম এলোমেলো দেখলে তার ব্যবস্থা গ্রহন করা আপনার কর্তব্য।

৩৯ সঞ্চয় তৈরি করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের অথবা সাপ্তাহিক লভ্যাংশ সঞ্চয় হিসেবে তৈরি করুন। আপনি এগুলো ব্যাংক অথবা কোন সঞ্চয় প্রতিষ্ঠানে রাখতে পারেন। এই সঞ্চয়গুলো আপনাকে সাহায্য করবে আপনি যখন অর্থের বিপদে পড়বেন। তখন এগুলো থেকে কিছু রেহাই পেতে পারেন। ব্যবসার জন্য দরকার হলে ব্যাংক এ সঞ্চয় করুন এবং লোনের দরকার হলে আপনি ব্যাংক লোন  নিতে পারেন এগুলোর মাধ্যমে

৪০ পরীক্ষা নিন

আপনি যদি মনে করেন আপনার কর্মিদের আরও চমকপ্রদ ও তথ্যবহুল করে গড়ে তুলতে চান, তাহলে আপনি সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার কর্মিরা আরো দক্ষ ও সাদৃশ্যপূর্ণ হবেন। পরীক্ষার ফলাফল স্বরুপ আপনি তাদের নগদ অর্থ অথবা কোন প্রকার গিফ্ট দিয়ে অনুপ্রেরিত করতে পারেন।

৪১ চ্যালেন্স শিকার করুন

উদ্দ্যোক্তাদের মুল হাতিয়ার হল চ্যালেন্স। এর পর মেধা তারপর অর্থ। আপনি যে কোন ব্যবসার সাথে সমপৃক্ত হোন না কেন আপনাকে চ্যালেন্স গ্রহন করতে হবে। পৃথিবীতে এমন কাজ নেই যে আপনি চ্যালেন্স গ্রহন ছাড়া জয়লাভ করতে পেরেছেন। হয়তো আপনি বর্তমানে কোন কোম্পানির আওতায় কাজ করে মাস শেষে স্যালারি পাচ্ছেন, কিন্তুু একবার ভেবে দেখেছেন কি আপনি যে কোম্পানির সাথে কাজ করে বেতন পাচ্ছেন সেই কোম্পানির মালিক কতটা চ্যালেন্সের সাথে আজ এতদুর পর্যন্ত এসেছে। তাই আপনাকেও স্বপ্নের সাথে বাস্তবে চ্যালেন্স গ্রহন করতে হবে।

৪২ অনুশীলনে ধৈর্য ধরতে হবে

আপনি নতুন ব্যবসা শুরু করার সময় আপনাকে অনুশীলন করতে হবে। মানে খেলোয়াড় যেমন অনুশীলন করে মাঠে নামে ঠিক আপনাকেও সেটি করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যদিও ব্যবসা করার জন্য নামছেন ঠিক সেটি খেলার মতই। আপনাকে ভাল অনুশীলন ও শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। আপনি একদিনেই হাটতে শিখেন নি, আর কেউ একদিনে হাটতে পারেও না। আপনি যে ব্যবসা করার প্লান করেন না কেন আপনাকে আগে অনুশীলন করতে হবে ও অনুশীলন করার সময় ধৈর্য ধারন করতে হবে।

৪৩ পরামর্শকদাতার কথা শুনুন

বিষেশ করে একটা কথা না বললেই নয়, এটা কিন্তুু আমি কাউকে কটুক্তি করে বলছি না। আমাদের বাঙালিদের মাঝে একটা বিষয় লক্ষ করা যায় যে অল্প একটু বিষয়ে জানলেই মনে হয় আপনি পৃথিবী সমন্ধে সব কিছু জেনে গেছেন। আর এমন ভাব দেখায় যে তিনি সবজান্তা হয়ে গেছেন। একদম ধারের কাছেই যাওয়া যায় না। আসলে তা না আপনি পরামর্শকদাতাদের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য ও আপনার পরিকল্পনার জন্য পরামর্শ নিতে পারেন।
পরামর্শকদাতাদের পরামর্শ কখনও অবহেলা করবেন না। আপনার থেকে পৃথিবীতে ও তার থেকেও পৃথিবীতে আরও বহু জ্ঞানকোষ মানুষ আছে।

৪৪ মৃদুতা থাকুন

আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মির উপর যেমন মৃদুতা থাকবেন ঠিক একজন কাস্টমারের সাথেও মৃদৃতা থাকুন। মুখে সব সমঢ হাসি রাখুন ও মনকে উৎফুল্ল্য রাখুন। এতে করে আপনার সবাই ফ্রি হয়ে যাবে ও আপনার প্রতি ভালবাসা বেড়ে যাবে। ব্যবসায়িক হলে এমনেই হওয়া উচিৎ, বুকে কষ্ট থাকলেও মুখে যেন মুক্তঝড়া হাসি সব সময় থাকে। তাহলে আপনি সব জায়গায় সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

৪৫ ক্রটি শনাক্তকরণ

আপনার প্রতিষ্ঠানের সব কিছু নিয়মিত চেক করুন এবং কোন কোন জিনিসের ক্রটি রয়েছে সেগুলো শনাক্ত করে সমাধান করুন। এছাড়াও আপনার কর্মিদের ক্রটি শনাক্ত করুন। তাদের চাহিদা ও তাদের অভাবের দিকে গুরত্বসহকারে দেখুন এবং পারলে সেগুলোও সমাধান করে নিবেন। এভাবে আস্তে আস্তে আপনার প্রতিষ্ঠানের সব কিছু ক্রটিমুক্ত করে ফেলুন।

৪৬ প্রতিক্রিয়া প্রয়োগ করুন

আপনি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মিদের প্রতি তাদের ভুলগুলো তুলে ধরুন। আপনি তাদের ভুলগুলো সমাধান করার জন্য নিজ হাতে কলমে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলুন। এছাড়াও আপনার সেবা দিতে গিয়ে লোকসানে পড়েন সেগুলো আপনার কাস্টমারদের সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন। এই প্রক্রিয়াদি যদি আপনি মৌখিক ও লিখিত দিতে না পারেন তাহলে একটা সময় আপনি পূজিঁ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই আপনার প্রতিক্রিয়ার প্রয়োগ করুন।

৪৭ ঢালি খাতার উপর গুরত্ব দিন

আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের সব হিসেব প্রতিদিন সমপূর্ণ করেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিন। আপনি হিসেব করার সহজ কৌশলের জন্য একের অধিক টালি খাতা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি সারাদিনের লাভ ও ক্ষত এর হিসাব কর্মিদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে নিজেই শুরু করে দিন। এছাড়া আপনি টালি খাতাগুলো বছর হিসেবেও করতে পারেন। মোটকথা হিসেব করতে আপনার যে রকম পদ্ধতি ভাল হয় সেই পদ্ধতি গ্রহন করুন। তবুও হিসেব করা ছাড়া থেকে বিরত থাকুন। ব্যবসার মুল হচ্ছে সঠিক হিসেব করা।

৪৮ অফার প্রদান করুন

আপনি আপনার কাস্টমারদের জন্য কিছুদিন পর পর বিভিন্ন অফার প্রদান করুন। বর্তমানে কম্বো অফার সব থেকে বেশি চলতেছে। আপনি আপনার মোট লভ্যাংশের ৫% অফারের জন্য নিয়োজিত রাখুন। নিশ্চয়ই ভালো অফার যেমন আপনার পণ্যের সেল বাড়িয়ে দেয় ঠিক অপরদিকে ভাল ব্রান্ডিং করতে সাহায্য করে। আপনি কর্মিদের জন্য সেল এর উপর অফার দিতে পারেন। এর থেকে যেমন আপনার সেল বৃদ্ধি পাবে অপরদিকে কর্মিরাও সন্তোষজনক হবে।

৪৯ মাথা ঠান্ডা রাখুন

আপনি যদি মাথা গরম করে সব কিছু করেন তাহলে আপনার ফলাফল শূণ্য বলে গনণা করা হবে। একজন ব্যবসায়ির মাথা কখনও গরম থাকতে নেই। মাথা ঠান্ডা করে আপনি কাজ করবেন সব সময়। যদি কখনও একজন কাস্টমার আপনার উপর রাগান্বিত হয় তারপরেও আপনার মাথা গরম করে কথা বলার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন আপনি তাদের সেবা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে আপনি ও আপনার পরিবারের খাদ্য জোটে।

৫০ হালাল পণ্যের ব্যবসা

পৃথিবীতে অনেক ধরনের ব্যবসা রয়েছে। হালাল ব্যবসা হারাম ব্যবসা। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক আপনি হালাল ব্যবসা করে আয় করুন। হালার ব্যবসায় যেমন রয়েছে বরকত ঠিক তেমন রয়েছে মনের মধ্যে প্রশান্তি। হালাল ব্যবসা আমাদের ইসলাম ধর্মের নবী রাসুল পয়গাম্বরদের ব্যবসা। অনেক নবী ও রাসুল হালাল ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা অবশ্যই হালাল ব্যবসার কথা বলা হয়েছে। হারাম ব্যবসা যে পৃথিবীতে নেই তা নয়, অনেক মুসলমান আজকাল হারাম ব্যবসা করে আসতেছেন, এটা একদমেই ঠিক নয়। কেয়ামতের দিন এর হিসাব দিতেই হবে। আর আপনি নিয়মিত নামাজ আদায় করুন। নামাজ আমাদের সব মুসলমানের উপর আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন।

৫১ গুনগতমান ঠিক রাখুন

উপরে যা কিছুউ পড়েছি সব কিছুই মিথ্যে হয়ে যাবে যদি আপনার পন্য সেবার গুনগতমান ঠিক না থাকে। তাই আপনি আপনার পণ্য সেবার গুন মান সব কিছু ঠিক করেই মার্কেট এ ব্যবসার জন্য নেমে পড়তে পারেন। যেন একবার কেউ আপনার পণ্য সেবা নিয়ে আবার আপনার কাছে চলে আসে। আর যদি আপনার পণ্য সেবার মান ঠিক না থাকে তাহলে আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সবাই। এভাবে আস্তে আস্তে একদিন আপনার সব মার্কেটশূণ্য হয়ে যাবে।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment