শিং মাছ চাষ করার সব থেকে সহজ ও সঠিক পদ্ধতি

শিং মাছ বর্তমান বাজারে ব্যাপক চাহিদা। কিন্তুু কালের বিবর্তনে শিং মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ থেকে। আগের সময়ে পুকুরে, খালে, বিলে, হাওর ও বাওরে শিং মাছ ব্যাপক দেখা যেত। এক সময় শিং মাছ একদম বিলুপ্তির পথে গিয়েছিল, কিন্তু আমাদের দেশের মৎস্য খামারিরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে শিং মাছের প্রজজন করে আবার সেই আগের ধারা এনে দিয়েছে। শিং মাছের আরও একটি নাম আছে সেটা হল জিয়ল মাছ। কিন্তুু বর্তমানে নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তারা শিং মাছ চাষ করার জন্য আগ্রহি হচ্ছে এবং শিং মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করছে । বাংলাদেশের সব থেকে বেশি দেশি শিং মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহ এর ত্রিশাল উপজেলার মধ্যে। সেখানকার খামারিরা ১ শতাংশ জমির মধ্যে শিং মাছ চাষ করে প্রতি ৬ মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই সফলতাকে সামনে রেখে বর্তম্ন সমাজের তরুণ উদ্দ্যোক্তারা শিং মাছ চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করে যাচ্ছে। আসুন আজ আমরা শিখবো শিং মাছ চাষ করার পদ্ধতি।

শিং মাছ চাষের পুকুর

শিং মাছ চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে পুকুর প্রস্ততি গ্রহন করতে হবে। সাধারনত ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশের পুকুরে শিং মাছের জন্য ভাল ফলাফল দেয়। আপনি এক একর জমির পরিমানের পুকুরেও শিং মাছ চাষ করতে পারেন। প্রথমে আপনি পুকুরের পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে নিন। কিছুদিন পুকুরের তলদেশ রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ইচ্ছে হলে আপনি পুকুর খনন করে পারে মাটি ভরাট করে দিতে পারেন। বন্যায় যেন পুকুরের পাড় তলিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আর যদি আপনার পুকুরে সেচ দিয়ে পানি না শেষ করা যায় তাহলে আপনি পুকুরের পানিতে রোটেনন ট্যাবলেট ব্যবহার করুন। এরপর রাক্ষুসে মাছ ও পরিত্যক্ত মাছ মেরে ফেলার জন্য কিছু ফসটঙ্নি ম্যাজিক গোল্ড ট্যাবলেট প্রয়োগ করুন। এখন পুকুরের মুল কাজ শুরু করবেন প্রতি শতাংশে ১ কেজি করে চুন প্রয়োগ করে। তারপর আপনি প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম শিং ব্রাইট গোল্ড (দানাদার) প্রয়োগ করুন। এতেকরে আপনার পুকুরের পানির রং স্থির থাকবে। এখন আপনি পুকুরের চারদিকে জাল দিয়ে ঘের করে দিন এর ফলে পুকুরে সাপ ও ব্যাঙ ঢুকতে পারবে না। ব্যাঙ শত্রু না হলেও শিং মাছের জন্য সাপ প্রধান শত্রু। শিং মাছের চাড়া সাপ খেয়ে ফেলতে পারে। তাই ভালভাবে জাল দিয়ে ঘের দেওয়া জরুরী। এরপর পুকুরের প্রতি শতাংশে ৫০ গ্রাম টিএসপি ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫ কেজি গোবর একসাথে মিশ্রণ করে পুকুরের পানিতে ছিটিয়ে দিন। ৫ থেকে ৭ দিন পর দেখতে পাবেন পুকুরের পানি সবুজ বর্ণের হয়ে গেছে। এখন আপনি শিং মাছের চাড়া পুকুরে ছাড়তে পারেন। সব থেকে ভাল হয় আপনি ২ থেকে ৩ ইঞ্চি শিং মাছের পোনা পুকুরে ছাড়লে আপনি আরও কম ছাড়তে পারেন সমস্যা নেই। নিয়মিত পরিচর্যা করলেই হল । আর ২ ইঞ্চি ছাড়লে এতে করে আপনি কোন রকম ভয় থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

শিং মাছের পোনা

আপনি যদি এককভাবে পুকুরে শিং মাছ চাষ করতে চান তাহলে শতাংশে ৫০০ থেকে ১ হাজার পোনা ছাড়তে পারবেন। আপনি শিং মাছের পোনা ছাড়ার আগে পানির গুনাগুন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিবেন। আপনি যদি পানি নিঙ্কাশন করতে না পারেন তাহলে প্রতি শতাংশে একটু কম করে ছাড়বেন। আপনি যদি শিং মাছের সাথে মাগুর মাছ চাষ করেন কিংবা কৈ মাছ চাষ করেন তাহলে মানসম্মত ও স্ব্যাস্থবান পোনা ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছের সাথে শতাংশ প্রতি ৩০/৫০ টি শিং মাছ দিতে পারেন। আপনি তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের সাথেও শিং মাছ চাষ করতে পারেন। এর জন্য শতাংশে ৫০ টি ছাড়তে পারবেন। অন্য মাছের জন্য আপনার শিং মাছের চাড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকবে। এখন বেশিরভাগ শিং মাছের চারা আনতে হয় হ্যাচারি থেকে। তাই আপনি যখন হ্যাচারি থেকে শিং মাছের চারা আনবেন তখন অবশ্যই এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিন দিয়ে শিং মাছের চারা ডেলিভেরি নিবে। আবার আপনি যখন পুকুরে ছাড়বেন তখনও এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনের মাধ্যমে গোসল করিয়ে পুকুরে ছাড়বেন। তা না হলে মাছের মধ্যে অনেক ক্ষত তৈরি হয়। তাই পুকুরে ছাড়ার পর আবার ২ থেকে ৩ দিন পর এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিন প্রয়োগ করবেন। এতে করে মাছ রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকবে আর পরবর্তী সময়েও রোগ হওয়ার সম্ভবনা কম থাকবে।

চাষের সময় ও মেয়াদকাল

আপনি শিং মাছ চাষ করেন তাহলে একটি নিদৃষ্ট সময়ে চাষ করতে হবে। বছরের এপ্রিল থেকে মে মাস থেকে শিং মাছ চাষ করার আদর্শ সময়। যাহারা তার আগের বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বের দিকে নার্সিং এ চাপে পোনা রাখেন শুধুমাত্র তারাই ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে চাষ করতে পারেন। তবে প্রতি বছরের মে – জুন থেকে আপনাকে পোনা প্রাপ্তিযোগ্যের সুবিধে হয়। মান সম্মত পোনা আর খাবার সহ পরিচর্যা যদি সব ঠিক থাকে তাহলে ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই প্রতিটি শিং মাছ ৬৫ থেকে ৭৫ গ্রাম হয়ে যাবে। এই সময়ে সব থেকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে পানির গুনাগুন নিয়ে। যদি পানির গুনাগুন ঠিক থাকে তাহলে আপনি শিং মাছের আরও ভাল ফল পেয়ে যাবেন।

শিং মাছের খাবার

মান সম্মত খাবার ছাড়া শিং মাছ চাষ করে ভাল ফলাফল আশা করা যাবে না। শিং মাছের জন্য অধিক প্রোটিনযুক্ত খাবার দেওয়া ভাল। প্রাণিজ প্রোটিন হিসেবে মিট অ্যান্ড বোন্ড মিলের খাবারের পরিতর্তে ভাল মানের ফিস মিল ব্যবহার করা জরুরী। এছাড়া শিং মাছ পুকুরের তলদেশের জলজ কীট খেয়ে থাকলেও লাভজনক ফল পাওয়ার জন্য ৩২% সম্পূরক খাদ্য দেওয়া ভাল। আপনি মান সম্মত ভাসমান খাবার দিতে পারেন। ভাসমান খাবার দিলে পুকুরের তলদেশের স্ব্যাস্থকর পরিবেশ ঠিক থাকে। আপনি শিং মাছের খাবারের সাথে ‘বায়োজাইম’ এবং গ্রোথ প্রোমোটর (র‌্যাপিড গ্রো) প্রয়োগ করতে পারেন। এরফলে শিংমাছের হজম শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে যাবে এবং ভাল ফলাফল আশা করতে পারেন। খাবার প্রয়োগ করবেন আপনি রুটিন মোতাবেক। মাছের চারা ছাড়ার ১০ দিন আপনি ২০% করে খাবার প্রয়োগ করবেন। ছোট থাকা অবস্থায় শিং মাছ রাতে খাবার খাওয়া পছন্দ করে। তাই আপনি ২০% খাবারকে ২ ভাগে বিভক্ত করে সন্ধার পর পুকুরে প্রয়োগ করবেন এবং ভোর বেলা প্রয়োগ করবেন। এর পর ১০ দিন পার হলে আপনি খাবার একটু কমিয়ে দিবেন। তখন ১৫% খাবার ঠিক আগের মতই দুই ভাগে ভাগ করে সন্ধার পর ও ভোর বেলায় দিবেন। ২০ দিন হলে আপনি খাবারের পরিমান আরও কমিয়ে দিন। আপনি বাকি ১০ দিন ১০% করে বিভক্ত করে আগের নিয়মে খাবার দিন। শিং মাছ ছাড়ার ১ মাস এভাবেই খাবার দিতে থাকুন। ১ মাস পর খাবারের পরিমান আরও কমিয়ে এনে তা ৫% করুন। যখন শিং মাছের ওজন যখন ৩ ইঞ্চি হবে তখন আপনি দিনের বেলায় খাবার দেওয়া শুরু করবেন। সেই সময়ে শিং মাছ দিনের বেলায় খাবার খাওয়া পছন্দ করে। আপনি সন্ধার যে খাবারটি পুকুরে প্রয়োগ করেছিলেন সেটি বিকেল এর শেষের দিকে দিন। আর ভোরে যে খাবারটি দিয়েছিলেন সেটি সকাল ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে প্রয়োগ করুন। এর পর আপনার শিং মাছের ওজন যখন ১৫ গ্রাম হতে তখন আপনি ৩% খাবার দেওয়া শুরু করুন। আপনি শিং মাছে না উঠানো পর্যন্ত এই খাবার দেওয়া নিয়ম বজায় রাখুন। বেশি খাবার দিলে পানির গুনাগুন নষ্ট হয়ে এর থেকে নানা রকম রোগবালাই দেখা দিতে পারে। তাই আপনি খাবার কমিয়ে দিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

শিং মাছের রোগ

সব প্রাণীরেই রোগ হয় তাই শিং মাছের রোগ হওয়া অস্বাভাবিকের কিছু না। শিং মাছের মূল রোগ গুলো হয় এ্যামোনিয়া জাতীয় রোগ। এর কারন হল আপনি যদি কখনও বেশি প্রদান করেন। খাবার ও জৈব পদার্থের ফলে তাহলে তা পানির তলদেশে গিয়ে পচনের সৃষ্টি হয়। এ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হয় তখন পানিকে দূষিত করে দেয়। গ্যাসের মাত্রা বেশি হওয়ার ফলে শিং মাছ দ্রুত মারা যেতে পারে। এই সমস্যা দূর করার জন্য প্রতি একরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম গ্যাসোনেঙ প্লাস পুকুরের পানিতে (বালির সঙ্গে মিশিয়ে) ছিটিয়ে দিলে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া আপনি পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে পারেন। কখনও দেখবেন শিং মাছের পোনার ত্বক ও মুখে তুলার মত সাদা দাগ দেখা যায়। সেপ্রোলেগনিয়া এক জাতীয় ছত্রাকের কারনে এমন দাগ হয়। তার জন্য আপনি একর প্রতি ৩ ফুট পানির জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ মিঃলিঃ ‘পলগার্ড প্লাস’ পরপর দুই দিন দুই ডোজ প্রয়োগ করবেন। এছাড়া ফরমালিন বা ম্যালাকাইট গ্রিনের মাধ্যমে চিকিতৎসা করলে ভাল ফল পাবেন। পরজীবী বা প্রোটোজোয়া কর্তৃক রোগে পুকুরের শিং মাছ আক্রান্ত হলে ‘ডেলেটিঙ্’ প্রয়োগে চমৎকার সুফল পাওয়া যায়।

শীতকালে শিং মাছ চাষ

শীতকালে শিং মাছ চাষ করা একটি কঠিন হয়ে যায়। তবে আপনি যদি সব কিছু ঠিক রেখে শীতকালে শিং মাছ চাষ করার পদ্ধতি অনুসরন করেন তাহলে ভাল উপায়ে চাষ করা সম্ভব। শীতকালে শিং মাছের রোগ বালাই থেকে মুক্ত করার জন্য আপনাকে প্রতি ১৫ দিন পর পর পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হবে। সেই সাথে প্রতি মাসে একবার করে এন্টিফাঙ্গাস ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। এতে পানি ও মাছ উভয়েই পরিপক্ক থাকবে । পুকুরের পানির উচ্চতা ২ ফুট রাখা অবশ্যই উচিৎ। গ্যাস দুর করার জন্য কোন ক্রমেই শিং মাছের পুকুরে হররা টানা যাবে না। এতে করে শিং মাছ খাবার তো ছেড়ে দিবেই, সাথে শিং মাছ আরও গ্যাস সৃষ্টি করবে। যদি আপনি দেখতে পান পানির তলদেশে প্রচুর গ্যাস সৃষ্টি হয়েছে তখন আপনি গ্যাসোনেক্স মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে তা দুর করতে পারবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে আপনি শীতকালে শিং মাছ চাষ করতে পারবেন।

শিং মাছ চাষ পরিচর্যা

শিং মাছ চাষ করতে পুকুরে বেশি পানির দরকার হয় না। আপনি যদি পোনা নার্সিং করেন তাহলে ২ থেকে ১.৫ ফুট পানি শিং মাছের নার্সিং করার জন্য যতেষ্ট। আপনি যখন একদম চাষ করবেন তখন ৩ থেকে ৩.৫ ফুট পানিতে শিং মাছ চাষ করার জন্য যতেষ্ট। আপনি নিয়মিত খাবার দিন উপরের নিয়ম অনুযায়ী। এছাড়া পুকুরের পাড় সব সময় খেয়াল করুন যেন ছিদ্র না থাকে। আপনি যে জাল দিয়ে গেথে দিয়েছেন সেগুলো ভাল করে খেয়াল করুন যেন ছিঁড়ে না যায়। ছিঁড়ে গেলে সাব পুকুরে প্রবেস করার ভয় থাকে। মাছে মাঝে আপনি শিং মাছ তুলে পরীক্ষা করুন এছাড়া পানির পরিবেশ ও পানির নিচের পরিবেশ সব ঠিক মত আছে কিনা তা দেখভাল করুন।

শিং মাছ আহরন পদ্ধতি

অন্য মাছ আপনি জাল টেনে ধরতে পারেন নিমেষেই। কিন্তুু শিং মাছ আপনি জাল টেনে ধরতে পারবেন না। কারন শিং মাছের রয়েছে বিষাক্ত কাঁটা। শিং মাছের কাঁটা যখন জালে আটকিয়ে যাবে তখন মহা বিপদে পড়বেন। এছাড়া সব থেকে ভয় থাকে যদি কাঁটা আপনার গায়ে বা হাতে বিধঁলে অনেক যন্ত্রণা হয়। যদি কোন ক্রমে কাঁটা বিধেঁ যায় তাহলে আপনি গরম পানির ছ্যাক দিতে পারেন। এছাড়া গরম বালির ছ্যাক বা শুকনা মরিচের বিচি পুড়িয়ে তা ছ্যাক দিতে পারেন। কিছুটা উপশম পাবেন। এর পর আপনি ব্যাথানাশক মলম দিয়ে রাখতে পারেন। কিছুক্ষণ পর আর সেই বিষ থাকবে না। তবে সাবধানতা অবশ্যই ভাল।

আপনি শিং মাছ আহরন করার জন্য সেচ পদ্ধিতে আহরন করতে হবে। রাতের শেষের দিকে আপনি পুকুরে সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে নিয়ে তা বিভিন্ন পদ্ধতিতে আহরন করুন। শিং মাছ ধরার উপযুক্ত সময় হল ভোর ৬ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত। এ সময়ে রোদ কম থাকে এবং মাছ মরার প্রবণতা কম থাকে। এরপর আপনি একদিনেই সব মাছ বিক্রি করার ব্যবস্থা করুন। যদি কোন ক্রমে এক দিনে মাছ বিক্রি করা সম্ভব না হয় তাহলে আপনি পুকুরে কিছু পানি রেখে দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করতে পারেন। তারপরের দিন বাকি মাছ বিক্রি করে ফেলুন।

শিং মাছের আয় ও ব্যয় এর হিসাব

আপনি সারাবছর মাছ চাষ করলেন কিন্তুু আয় ও ব্যয় কেমন হল তার আইডিয়া যদি না দেই তাহলে কেমন হয়ে গেল না। এখন আপনাদের সম্ভাব্য কিছু আয় ও ব্যয় এর চিত্র দিবো হয়ত বাস্তবে নাও মিলতে পারেন। ১ হেক্টর জমির মধ্যে শিং মাছ চাষ করার আয়-ব্যয় হবে এরকম:

• চুন ২শ ৫ কেজি ২ হাজার টাকা।
• এমপি ১শ কেজি ৭০০ টাকা।
• টিএসপি ১২৫ কেজি ১,৮৭৫ টাকা।
• ইউরিয়া ২৫০ কেজি ২ হাজার টাকা।
• জৈব সার ২ হাজার কেজি ২ হাজার টাকা।
• সসম্পূরক খাদ্য ৩৬শ কেজি ৫৪ হাজার টাকা।
• মাছের চারা ২৫ হাজার ৩৭ হাজার টাকা।
• ঔষধ ও রাসায়নিক ১ হাজার টাকা।
• মাছ আহরন সহ সব ৪ হাজার ৫শ টাকা।
• বিভিন্ন খরচ ১ হাজার ৪ শ টাকা।
পুকুর খনন ও পুকুরের পার মেরামত বাদে আপনার
সর্বমোট ব্যয় হয়েছে = ১ লক্ষ ১০ হাজার ৪ শত ৭৫ টাকা। পুকুর ভাড়া নিয়ে ব্যয় হবে ২৮ হাজার টাকা।

এখন আপনার ১ হেক্টরের পুকুর থেকে বছরে মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৮০০ কেজি। প্রতিকেজি মাছ ১২৫ টাকা দামে বিক্রি করলে মোট আয় হয় ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। এবার আপনি ২,২৫০০০- ১,১০৪৭৫ = ১,১৪৫২৫/- টাকা।

আমি আগেই বলেছি এই হিসেবটি অর্জিনাল হিসাবের সাথে নাও মিলতে পারে। এটি সম্ভব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব মাত্র আপনাদের বোঝানোর জন্য। এছাড়াও আপনি কম জায়গায় বেশি লাভ ও বর্তমানের জনপ্রিয় বায়োফ্লক মাছ চাষ এর মাধ্যমে শিং মাছ চাষ করতে পারবেন।

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

1 thought on “শিং মাছ চাষ করার সব থেকে সহজ ও সঠিক পদ্ধতি”

Leave a Comment